বাড়ির ছোটো ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে তখন ধূপগুড়ির রায় বাড়িতে সাজো সাজো রব। প্যান্ডেল বাঁধার কাজ শেষ, অতিথিরাও একে একে আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু একটা ফোন কল, আর মুহূর্তে যেন সবকিছু ম্লান হয়ে গেল।
বিয়ের আগেই ভাইয়ের হবু বউকে নিয়ে পালালেন তাঁরই দাদা। রায় পরিবারের দাদার এই কীর্তিতে রায় পরিবারের মাথায় যেন তখন আকাশ ভেঙে পড়েছে। পাড়া-প্রতিবেশীরা ততক্ষণে ছিঃ ছিঃ রব তুলে ফেলেছেন। ধূপগুড়ির ঝাড় আলতাগ্রাম-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢ্যাংকালীর রায় পরিবারের এই কাহিনী এখন চর্চায়।
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত রবিবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল রায় পরিবারের ছোট ছেলের। এর ঠিক দু’দিন আগে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রায় পরিবারের বাড়িতে ফোন আসে বড় ছেলের। তিনি জানান যে তিনি তাঁর ভাইয়ের হবু স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। বড় ছেলের কাছ থেকে এমন বার্তা পেয়ে রায় পরিবারের সদস্যদের মাথায় যেন বজ্রপাত হয়েছিল।
বড় ছেলে এমন কাণ্ডের জেরে গোটা পাড়ায় যেন তখন ছিছিক্কার রব উঠে গেল। ছোট ভাই বলেন, “আমার সঙ্গে শেষমেশ এ ভাবে প্রতারণা করল দাদা! ভাবতেই পারছি না”। এদিকে পাত্রের মা বড় ছেলের এমন কাণ্ডে মুষড়ে পড়েন রীতিমতো। আক্ষেপ করে বলেন, “আমার বড় ছেলে এ ভাবে বিয়ে করল! এখন আমার ছোট ছেলেটার কী হবে”?
জানা গিয়েছে, রায় পরিবারের ছোটো ছেলের সঙ্গে আলিপুরদুয়ারের রাঙ্গালিবাজনা এলাকার এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘ চার বছর ধরে। সেই তরুণীর সঙ্গেই বাড়ির ছোটো ছেলের বিয়ের আয়োজনে মাতে রায় পরিবার। তাদের সেই প্রেম কাহিনীর মধ্যে ঢুকে পড়েন পাত্রের দাদা।
জানা গিয়েছে, ভাই ও তাঁর প্রেমিকার মধ্যে কোনও ঝামেলা হলে দাদাই তা সমাধান করতেন। এভাবেই ধীরে ধীরে ছোটো ভাইয়ের অগোচরেই দাদার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তাঁর প্রেমিকার। অন্যদিকে, ছোটো ছেলের সঙ্গে তাঁর প্রেমিকার বিয়ে পাকা করে পরিবার। সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কিন্তু তলে তলে তখন জল অন্যখাতে বইছে, তা আর রায় পরিবারের অন্য কেউ টেরও পায়নি। বিয়ের আয়োজন যখন সব শেষ, ঠিক সেই সময় পাত্রের দাদার হাত ধরে পালাল পাত্রের প্রেমিকা। এমন ঘটনায় সকলের সামনে এখন রায় পরিবারের মাথা হেঁট হওয়ার জোগাড়।






