আজ দেশের পাঁচ রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণের পালা। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর, গোয়া ও পঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতে চলেছে আজই। পশ্চিমের কোঙ্কণ উপকূলের রাজ্য গোয়াতেও রয়েছে ফলাফল প্রকাশ। বুথ ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, গোয়াতে ত্রিশঙ্কু হতে চলেছে।
সেই বুথ ফেরত সমীক্ষাই সঠিক প্রমাণিত হবে, নাকি বিজেপি বা কংগ্রেস সে রাজ্যে সরকার গড়বে, তা জানতে লাগবে আর মাত্র কিছুক্ষণ। আবার অনেকেরই মতে, গোয়ায় ভাগ্য নির্ধারণ করতে চলেছে তৃণমূল ও মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির জোট।
এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, গোয়ায় ২০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। বিজেপিকে জোট টক্কর দিচ্ছে কংগ্রেসও। ১৫ টি আসনে এগিয়ে তারা। অন্যদিকে, ৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল এবং গোমন্তক পার্টির জোট।
তবে এই তিনটি আসনের কোনও আসনেই তৃণমূল এগিয়ে নেই। প্রথমবার সে রাজ্যে লড়াই করে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখেছিল তৃণমূল। কিন্তু তাদের ঝুলি বর্তমানে শূন্যই রয়েছে।
৪০ আসন বিশিষ্ট গোয়া বিধানসভায় বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। মনে করা হচ্ছে, তৃণমূল জোট যে পক্ষের হাত ধরবে, গোয়ায় সরকার গঠন করবে তারাই। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিজেপির থেকে কংগ্রেসই বেশি সাহায্য পাবে তৃণমূলের।
প্রথম থেকেই গোয়ায় বিজেপির বিরোধিতা করে এসেছে তৃণমূল। কংগ্রেসের হাতও ধরতে চেয়েছিল তারা কিন্তু সেই সময় কংগ্রেস তাতে সায় দেয়নি। তবে সম্প্রতি আবার তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে কংগ্রেস। এর ফলে নির্দলরা বিজেপির পাশে থাকলেও, তৃণমূলের পাল্লা যে কংগ্রেসের দিকেই যাবে, তা বলাই বাহুল্য।
বলে রাখি, ভোটের আগে গোয়ার প্রার্থীদের মন্দির, মসজিদ এবং গির্জায় নিয়ে গিয়ে শপথ করিয়েছিল কংগ্রেস। তাদের দিয়ে শপথ করানো হয় যে ভোটে জিতলে অন্তত ৫ বছর তাদের কংগ্রেসেই থাকতে হবে। কোনও মতেই দল ছাড়া যাবে না।
আসলে, ২০১৭ সালে গোয়ায় ১৭টি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু পরবর্তীতে মাত্র ১৩টি আসন পাওয়া বিজেপিতে যোগ দেন কংগ্রেসের ১০ জন বিধায়ক। আর এর ফলে গোয়ায় সরকার গড়ে বিজেপি। ফের কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে নাকি এবার গোয়ার মসনদে বসবে কংগ্রেসই? এখন সেদিকেই নজর গোটা দেশের।






