হিজাব বিতর্কে রায়দানের ফল, খুনের হুমকি পাচ্ছেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, ফের শুরু বিতর্ক

হিজাব বিতর্ক প্রথমে কর্ণাটকে শুরু হলেও এর প্রভাব পড়েছে গোটা দেশে। এই ঘটনা নিয়ে উত্তপ্ত দেশের রাজনীতিও। সম্প্রতি, এই হিজাব মামলা নিয়ে রায় প্রদান করেছেন কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি। আর এর ফলে বিতর্ক যেন আরও বেড়েছে।

কিছুদিন আগেই কর্ণাটক হাইকোর্টে হিজাব বিতর্ক নিয়ে একটি মামলা ওঠে। এই মামলা শোনার পর সেখানকার বিচারপতিরা নিজেদের রায় দেন। আর সেই রায়দানের কারণেই কার্যত এবার খুনের হুমকি পেলেন বিচারপতি। এমনই অভিযোগ করে থানায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে বিচারপতি দাবী করেছেন যে মাদুরাই জেলায় একটি জনসভায় এক অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি তাঁকে খুনের হুমকি দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ডিসেম্বরে। কর্ণাটকের একটি কলেজে কিছু ছাত্রী হিজাব পরে কলেজে ঢুকতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয় যে কোনও ধর্মীয় পোশাক পরে কলেজে ঢোকা যাবে না। এই নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। কিন্তু ছাত্রীরা হিজাব ছাড়া কলেজে ঢুকতে রাজি হন না।

এরপর কর্ণাটকের উদুপি কলেজেও এই একই ঘটনা ঘটে ও এর জেরে কলেজে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর জেরে কর্ণাটক সরকার কয়েকদিনের জন্য সমস্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু কাজ হয়নি। এরপরই এই নিয়ে মামলা দায়ের করা হয় কর্ণাটক হাইকোর্টে।

এই ঘটনার প্রভাব পড়ে গোটা দেশে। নানান রাজনৈতিক দল নিজেদের মতামত পেশ করতে থাকে এই নিয়ে। হাইকোর্টের বেশ কিছুদিন চলে এই মামলা। এরপর বিচারপতি রায় দিয়ে জানান যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনও ধর্মীয় পোশাক বাঞ্ছনীয় নয়। এর জেরে হিজাব বিতর্কে কার্যত হার হয় ওই ছাত্রীদের।

এরপরই একটি ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে দেখা যায় এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে এক জনসভায় হিজাব বিতর্কে রায়দানকারী প্রধান বিচারপতিকে খুনের কথা বলছেন। হোয়াটসঅ্যাপে এক পরিচিতর মারফত ওই ভিডিও দেখেন বিচারপতি উমাপতি এস। এরপর কোনও ঝুঁকি না নিয়ে তৎক্ষণাৎ তিনি দ্বারস্থ হন থানার। অভিযোগ করেন খুনের হুমকি পাওয়া নিয়ে। এর জেরে যে হিজাব বিতর্ক আরও বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

RELATED Articles