পাকিস্তানি চ্যানেলে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের গণহত্যায় ক্ষমা চাইলেন মুসলিম যুবক, ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করলেন ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ছবির পরিচালক

‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ নিয়ে দিন দিন যেন উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এই ছবিকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিল্পমহল তো বটেই, এই বিতর্ক ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ময়দানেও। এসবের মধ্যেই এবার এই ছবি পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী এক কাশ্মীরি মুসলিম যুবকের একটি মন্তব্যের ভিডিও শেয়ার করলেন।

নব্বইয়ের দশকে উপত্যকায় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের গণহত্যায় সকলের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন ওই যুবক। এক পাকিস্তানি টিভি চ্যানেলের ভিডিও এটি। সেই ভিডিও শেয়ার করে ওই যুবকের উদ্দেশে বিবেক অগ্নিহোত্রী লেখেন, “কেউ যদি এই যুবককে চেনেন, তাহলে তাঁকে আমার ভালোবাসা পাঠাবেন”।

এই বিষয় নিয়ে টুইটারে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ছবির পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী লেখেন, “কাশ্মীরি মুসলিম যুবক সকল কাশ্মীরি হিন্দুদের হত্যার জন্য দু:খপ্রকাশ করেছেন একটি পাকিস্তানি চ্যানেলে। গণহত্যা বলে দু:খপ্রকাশ করাটা ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রথম ধাপ। কেউ যদি ওই যুবককে চেনেন, তাহলে দয়া করে আমার ভালোবাসা ওঁকে পাঠাবেন”।

পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (সেক্যুলার) সাধারণ সম্পাদক জাভেদ বাগ একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন যে তিনি সংগ্রামপোরা হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তাঁর কথায়, “কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হত্যা করা হয়েছল। আমি নিজের চোখে তা দেখেছি। যাঁদের হত্যা করা হয়েছে, তাঁরা কখনই কারও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেননি বা কোনও কাশ্মীরি মুসলিমকে হত্যা করেননি। তাঁদের হাতে কোনও অস্ত্রশস্ত্র ছিল না। এটা হত্যাকাণ্ড ছাড়া আর কী”।

তিনি আরও বলেছেন, “যে অপরাধ করা হয়েছে, তার জন্য আমাদের সকলের হাতজোড় করে জনসমক্ষে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এজন্য একটা ছবির প্রয়োজন নেই”।

‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ নিয়ে বিতর্কের এক অন্য মাত্রা যোগ করেছেন অভিনেতা নানা পাটেকর। তিনি বলেছেন, “এই ধরনের একপেশে ছবিতে বিঘ্নিত হতে পারে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহ। ভারত হিন্দু-মুসলিম দু’জনেরই দেশ। দুই সম্প্রদায়ের মানুষই এখানে বসবাস করেন। তাই দু’জনের জন্যই শান্তির পরিবেশ প্রয়োজন। সবাই যখন শান্তিতে রয়েছেন, তখন এমনভাবে খুঁচিয়ে ঘা করার দরকার কী? এভাবে বিবাদ তৈরি করা ঠিক নয়”।

আবার, অন্যদিকে এই ছবি প্রসঙ্গে টুইটারে অভিনেতা আদিল হুসেনের বক্তব্য, “সত্য অবশ্যই বলা উচিত। তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে তা নম্রভাবে বলা উচিত। তা না হলে সত্য কথনের উদ্দেশ্য তার সৌন্দর্যতা হারায়। যার প্রভাব প্রতিক্রিয়াশীল হয়। আমরা অবশ্যই প্রতিক্রিয়াশীল সমাজ চাই না, দায়িত্ববান সমাজ চাই। শিল্পের কখনই প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়”।

RELATED Articles