বাপের বাড়ি বিজেপির সমর্থক, বউমাকে বেধড়ক মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন তৃণমূল নেতা, দেওয়া হল খুনের হুমকিও

ভাইয়ের বউমার পরিবার বিজেপি করে। এই কারণে গৃহবধূর উপর অকথ্য মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল নদীয়ার কুপার্স ক্যাম্প পুরসভার তৃণমূল ভাইস চেয়ারম্যান দিলীপ দাস ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। দেওয়া হল খুনের হুমকিও। গৃহবধূর পরিবারের তরফে থানায় এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়ার কুপার্স ক্যাম্প পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। জানা গিয়েছে, বছর পাঁচেক আগে কুপার্স ক্যাম্প ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোমা হালদারের সঙ্গে বিয়ে হয় ওই পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভাইস চেয়ারম্যন দিলীপ দাসের ভাইপো চিরঞ্জিত দাসের।

বিয়ের পর সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু বাধ সাধল অন্য জায়গায়। পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে যে এভাবে রাজনৈতিক সংঘর্ষ শত্রু হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়ত ভাবতেও পারেন নি সোমা। কিছুদিন পর সোমার দাদা বিজেপিতে যোগ দেন। আর এরপরই শুরু আসল ঘটনার। রাজনৈতিক কারণে পরিবারের মধ্যে আক্রোশ বাড়তে থাকে।

বউমার বাপের বাড়ি কেন বিজেপিকে সমর্থন করবে, এই দাবী তুলে গৃহবধূর উপর শুরু হয় অত্যাচার। প্রথমে মানসিক, তারপর শারীরিক। ক্রমেই বাড়তে থাকে অত্যাচারের আঁচ। এমনকি, গৃহবধূকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এতে নেতৃত্ব দেন তৃণমূল ভাইস চেয়ারম্যন দিলীপ দাস।

এরপরই ওই গৃহবধূর পরিবারের তরফে এই ঘটনাটি রাণাঘাট থানায় জানানো হয়। অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হলেও জামিন পেয়ে যায় গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি ঘটনা। এরপর শ্বশুরবাড়ির তরফে গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়। আগ্নেয়াস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। কোনও রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে যান তারা।

এরপর চিরঞ্জিত দাস ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ফের একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ওই গৃহবধূর পরিবার। এই ঘটনায় ভাইস চেয়ারম্যন দিলীপ দাসের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর।

আরও অন্যান্য খবর