‘যা করার আমি করছি’, রামপুরহাটের ঘটনায় শুভেন্দুকে জানালেন রাজ্যপাল, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যে ঘটলে তো চুপ থাকেন, এখন সরব কেন’, জগদীপকে পাল্টা মমতার

গতকাল, সোমবার তৃণমূল নেতা ভাদু শেখের খুন আর এরপর একের পর এক গ্রামের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, আর অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য সরকারকে তোপ দেগেছে বিজেপি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন। শুধু তাই-ই নয়, এই ঘটনায় রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন তিনি।

সাক্ষাতের পর বাইরে এসে শুভেন্দু জানান যে জগদীপ ধনখড় তাঁকে কী বলেছেন! শুভেন্দু জানান, “রাজ্যপালকে বলেছি, আপনি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। কেন্দ্রকে বলুন, এখানে ব্যবস্থা নিতে। সংবিধানের ৩৫৬ ধারাও রয়েছে, ৩৫৫ ধারাও রয়েছে। বোমা বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে এনআইএ-কেও কাজ লাগাতে পারে কেন্দ্র। এই আইন তাদের হাতে রয়েছে। এছাড়াও সংখ্যালঘুদের উপরে আক্রমণ হলে স্পেশাল অ্যাক্টে ব্যবস্থা নিতে পারে কেন্দ্র। রাজ্যপালকে বলেছি, আর আপিল নয়, মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় আপিল নয়, এবার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সময়”।

শুভেন্দুর কথায়, “রাজ্যাপাল জানিয়েছেন যে গোটা বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। উনি আরও বলেন, আমি যা করার তা করছি। আপনারা কয়েক দিনের মধ্যে তা বুঝতে পারবেন”।

শুভেন্দু আও বলেন, “রাজ্যপালকে অনুরোধ করেছি, ভোট পরবর্তী অশান্তির সময়ে আপনি যেমন শরনার্থী শিবিরে গিয়েছিলেন তেমনি রামপুরহাটেও চলুন। নিজের চোখে বাংলার আইনশৃঙ্খলা দেখে আসবেন। রাজ্যপাল কথা দিয়েছেন তিনি রামপুরহাটে যাওয়ার পরিকল্পনা করবেন”।

আর এরপরই রাজ্যপালের মন্তব্যের বিরোধিতা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবী রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই রাজ্যপাল এমন মন্তব্য করেছেন। মমতার দাবী, বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই ধরণের ঘটনা ঘটলে রাজ্যপাল চুপ করে থাকেন, তাহলে এখন কেন সরব হচ্ছেন!

এর পাশাপাশি এই চিঠিতে বগটুইয়ের ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলেও ব্যাখায় করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এও জানিয়েছেন যে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করা হবে। তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার আগে কোনও মন্তব্য করা উচিত নয় বলেই মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কারণে রাজ্যপালকে এই ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, তদন্তের মাধ্যমেই সত্যিটা সামনে আসবে ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই ঘটনাকে আগেই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলেই উল্লেখ করেছেন। তিনিও চিঠিতে লিখেছেন, “বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না”।

RELATED Articles