মানালি দে, টলি ও টেলিপাড়ার বেশ জনপ্রিয় একটি মুখ। সেই ‘বউ কথা কও’ থেকেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এরপর অভিনয় দুনিয়ায় এক দশকেরও বেশি সময় পার করে ফেলেছেন। বর্তমানে স্টার জলসার ‘ধুলোকণা’ ধারাবাহিকে ফুলঝুরির চরিত্রে অভিনয় করছেন মানালি।
সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বললেন মানালি। ‘ধুলোকণা’ ধারাবাহিক নিয়ে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা ঠিক কেমন? মানালির জবাব, “ফুলঝুরিকে মানুষ পছন্দ করেছেন। লালন-ফুলঝুরির জুটিকে দর্শক ভালবেসেছেন। এখানে বিভিন্ন শ্রেণির গল্প তুলে ধরা হচ্ছে। বড় বাড়ির গল্প রয়েছে, বস্তিরও আছে”।
শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের ‘গোত্র’ই হোক বা নানান ধারাবাহিকে তাঁর চরিত্র, সবদিক থেকে দেখলে মনে হয় যেন দর্শক তাঁকে মাটির কাছাকাছি চরিত্রে দেখতে বেশি ভালোবাসেন। মানালি নিজেও কী সেভাবেই নিজের চরিত্র বেছে নেন?
অভিনেত্রীর কথায়, “কোনও চরিত্র দেখে যদি দর্শকের মনে হয়, এটা তাঁর বা তাঁর পাশের বাড়ির মেয়ের গল্প, তবেই তো সেটা কাছের মনে হবে। ‘বউ কথা কও’ ধারাবাহিকের পরে দর্শক আমাকে চিনতে শুরু করেছিলেন। তবে এই ক’বছরে নানা ধরনের চরিত্র করেছি”।
নিজের এই ইমেজ ভাঙতে কখনও ইচ্ছা করে না? এর জবাবে মানালির যুক্তি, “বারো-চোদ্দো বছরের কেরিয়ারে একই চরিত্র দু’বার আসতে পারে। তবে ম্যাচিয়োরিটির দিক থেকে প্রতিটা চরিত্রই আলাদা। ‘গোত্র’র ঝুমা এবং ফুলঝুরি একই ধাঁচের নয়। আবার ‘সখী’ এবং ‘মহানায়ক’ ধারাবাহিকে সাংবাদিকের চরিত্রে ছিলাম। তবে দুটো চরিত্রের এসেন্স একেবারেই আলাদা। ধারাবাহিকের গল্পে নারীচরিত্রের বিয়ে হবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বৌ চরিত্র মানেই সব এক নয়”।
২০২০ সালে অতিমারির সময় পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে পারিচালক অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন মানালি। স্বামী পরিচালক হওয়ার কারণে কী কোনও বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়? মানালি বলেন, “আমাদের সম্পর্কের শুরু ‘নিমকি ফুলকি’ থেকে। তবে অভিমন্যুর ছবিতে কাস্ট হওয়ার জন্য আমি শেষ বিকল্প। ওর পরিচালনায় ‘লকডাউন’ করেছি। একই পেশায় আছি বলে সুবিধে আছেই। কখনও ক্লান্ত হয়ে পড়লে ও-ই আমাকে মোটিভেট করে। একদিন আমার শুটিংয়ে যেতে ইচ্ছে করছিল না। ও বলল, কত লোকের কাজ গিয়েছে এই লকডাউনে। আর তুই বলছিস কাজে যাবি না? আবার আমার ধারাবাহিকের ভালোমন্দ নিয়ে সেরা ফিডব্যাক অভিমন্যুই দেয়”।
তৃণমূলের সমর্থক মানালি। প্রচার মঞ্চেও নিয়মিত দেখা যায় তাঁকে। রাজনীতি নিয়ে কী মতামত তাঁর? মানালির কথায়, “দিদিকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। আমার মা মারা যাওয়ার পরে উনি আমার পাশে ছিলেন। জীবনের যে কোনও ক্রাইসিসে যিনি পাশে থাকেন, তাঁর পাশে থাকব না-ই বা কেন? লোকে বলে, সুবিধে পাই বলে সঙ্গে আছি। এখনও অবধি রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমার নেই। ভবিষ্যতে কিছু হলে জানতে পারবেন”।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে টলিউড থেকে একের পর এক অভিনেতা-অভিনেত্রী দুটি রাজনৈতিক দলে ভাগ হয়ে যায়। এ নিয়ে মানালির কী মত? তাঁর কথায়, “অভিনেতাদের রাজনীতিতে আসা নতুন নয়। আগেও হয়েছে। তবে কে কী ভেবে আসছেন, সেটা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। এটা প্রত্যেকের চয়েসের ব্যাপার”।





