নতুন বছরের শুরুতেই উত্তরে হাওয়ার বদলে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার দাপট। এই দাপটের সাথেই তৈরী হয়েছে ঘূর্ণাবর্ত এবং রাজস্থান থেকে ঝাড়খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে নিম্নচাপ অক্ষরেখা। এই তিনের প্রভাবেই শুক্রবার ভোর থেকেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে ঝেঁপে বৃষ্টি নেমেছে। কখনও ঝিরঝিরে বৃষ্টি এবং কখনও ভারী বৃষ্টি। এই আবহাওয়া থেকে এখনই নিস্তার পাওয়ার অবকাশ নেই। আগামী দু-দিন এরকমই আবহাওয়া চলবে বলে হাওয়া অফিস জানিয়েছে। তবে বৃষ্টি থামলে রবিবার দুপুরের পর থেকে ফের জাঁকিয়ে শীত ফিরতে পারে বলে আশাবাদী হাওয়া অফিসের কর্তারা।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও ঘূর্ণাবর্তের জেরে কলকাতায় তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এদিন সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৩ ডিগ্রি বেশি। শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবও নেই রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলেও। তবে বছরের প্রথমদিন থেকে রাজ্যের পশ্চিমের জেলাগুলিতে যে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছিল, তার বিস্তার ঘটেছে। এদিন সকাল থেকেই বীরভূম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, দুই বর্ধমান, দুই মেদিনীপুরের পাশাপাশি কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত একইরকম আবহাওয়া চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
অন্যদিকে, রাজ্যের উত্তরের জেলাগুলিতে এদিন হালকা বৃষ্টি হলেও শনিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। শুধু তাই নয়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিকিম এবং দার্জিলিংয়ে তুষারপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আর দার্জিলিংয়ে যদি তুষারপাত হয়, তাহলে তার প্রভাব যে দক্ষিণে পড়বে এবং তাপমাত্রার পারদ পড়বে তা বলা বাহুল্য। এছাড়া ঝঞ্ঝা সরে গিয়ে আকাশ পরিষ্কার হলে ফের ঠান্ডা হাওয়ার দাপট বাড়বে। ফলে সপ্তাহের শুরুতেই কলকাতার তাপমাত্রা আবার ১২ ডিগ্রির আশপাশে নেমে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।






