তিলোত্তমায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে পথদুর্ঘটনার সংখ্যা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ ক্যাম্পেন যে যথেষ্টই সাড়া ফেলেছে, তা এই তথ্য দেখেই স্পষ্ট। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেই তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে শেষ বছর অর্থাৎ ২০১৯ এ শহরে পথদুর্ঘটনায় আহত ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
কলকাতা পুলিশের পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে যে, ২০১৬ সাল-এ কলকাতা শহরে পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪০৭ জন। ২০১৭-তে সেই সংখ্যাটা কমে দাঁড়ায় ৩২৯। ২০১৮-তে আরও কমে গিয়ে হয়েছিল ২৯৪। এরপর ২০১৯-এ এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ২৬৭-তে, যা কলকাতা পুলিশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি, নন ফ্যাটাল অর্থাৎ যে রকম দুর্ঘটনায় পথচারী বা গাড়িচালকের মৃত্যু হয়নি, এমন পথদুর্ঘটনার সংখ্যাও শহরে কমেছে অনেকটাই। ২০১৬-য় যেখানে সংখ্যাটা ছিল ৩,১৮২। সেটাই ২০১৭-তে কমে হয়েছিল ২,৫৫৯। আর ২০১৮-য় আরও কমে তা হয় ২,১৮২। গত বছরে রেকর্ড কমে সেই সংখ্যাটি হয়েছে ২০১২-তে।
রাজ্য সরকার ২০১৬-য় ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ প্রকল্পের সূচনার পর থেকে প্রতি বছরই পথদুর্ঘটনার সংখ্যা নিম্নগামী হয়েছে শহরে। তবে ২০১৯-এর এই পরিসংখ্যান-এ শুধু দুর্ঘটনার সংখ্যা কম হওয়াই নয় হেলমেটবিহীন অবস্থায় গাড়ি চালানোর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে।
শহরে পথদুর্ঘটনা কমাতে গত বছরের শুরুতেই কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের তরফ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি শহরের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে সেখানে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের উপর কড়া নজরদারি, অতিরিক্ত গতির জন্য সম্ভাব্য দুর্ঘটনা কমাতে সিসিটিভি এবং স্পিড ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এইসব পরিকল্পনার কারণেই সবরকম দুর্ঘটনার পরিমাণই উল্লেখযোগ্য কমেছে বলেই দাবি কলকাতা পুলিশের।





