ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের সময় সমঝোতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ভারতের মধ্যস্থতায় যাতে ওই দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে, এমনই আবেদন করেছিলেন জেলেনস্কি। এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সেই মসয় অন্য কোনও পশ্চিমী রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে কথা না বললেও, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছিলেন।
এবার নরেন্দ্র মোদীর দ্বারস্থ হলেন শ্রীলঙ্কার বিরোধী দলনেতা সজিথ প্রেমাদাসা। গতকাল, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে শ্রীলঙ্কার পাশে থাকার জন্য আবেদন জানান তিনি। চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে সে দেশ। দিনদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এই আবহে এবার মোদীর কাছে সাহায্যের আর্তি করলেন প্রেমাদাসা।
সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রেমাদাসা জানান, “দয়া করে সবরকমভাবে শ্রীলঙ্কাকে সাহায্য করার চেষ্টা করুন। এটা আমাদের মাতৃভূমি। মাতৃভূমি বাঁচানো প্রয়োজন”।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়ে যে তিনি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত কী না? জবাবে তিনি বলেন, “আমি আপনাকে বলতে পারি যে শুধু আমি একা নই আমরা সবাই যেদিন থেকে রাজনীতি ও সমাজসেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেছিলাম সেদিন থেকে আমরা প্রস্তুত। যে কোনও ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে আমরা তৈরি।
তিনি আরও জানান, “দেশের মানুষকে বোকা বানানোর জন্য অনেকেই নাটক করছেন। আমাদের সমাজকে উন্নত করার কোনও চেষ্টাই করা হয়নি। মানুষকে বোকা বানানোর জন্য এখন সব কিছু করা হচ্ছে”।
বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের মুখে পড়েছে ভারতের প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র। এর জেরে অন্য দেশ থেকে খাবার ও জ্বালানি কিনতে পারছে না শ্রীলঙ্কান সরকার। আর এর ফলে বিদ্যুৎ সংকটের মুখে পড়েছে সেদেশ। কিছুদিন আগেই সেদেশে কাগজের অভাবের জেরে বাতিল হয়ে যায় পরীক্ষা।
সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। গত রবিবার ২৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা ইস্তফা দেয়। প্রেসিডেন্ট গাটোবায়া রাজপক্ষে সকল রাজনৈতিক দলগুলিকে যৌথভাবে দেশ চালানোর আবেদন জানান। এবার দেশের বিরোধী দলনেতার আবেদনে প্রধানমন্ত্রী মোদী কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই এখন দেখার।





