সাজা কাটার একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। তবে সেই সময় পার হওয়ার পরও জেলে রয়েছেন সারদা কর্ণধার সুদীপ্ত সেন ও রোজভ্যালির কর্তা গৌতম কুণ্ডু, এমনই আদালতে জানিয়েছিলেন তারা। এবার তাদের সেই আবেদনে সাড়া দিল আদালত। গতকাল, বুধবার ইডির বেআইনি অর্থলগ্নির সংস্থার মামলায় জেল হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন সুদীপ্ত সেন ও গৌতম কুণ্ডু। তবে অন্যান্য মামলার কারণে এখনই জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না তারা।
সম্প্রতি সুদীপ্ত সেন ও গৌতম কুণ্ডুর আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামী আদালতে আবেদন করে জানান, “প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং আইনের ধারায় সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর। কিন্তু সুদীপ্ত সেন ও গৌতম কুণ্ডু সাত বছরের বেশি সময় জেল হেফাজতে রয়েছেন। তাই তাঁদের মুক্তি দেওয়া হোক”।
গতকাল, বুধবার সেই মামলার শুনানি হয়। তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী অভিজিৎ ভদ্র বলেন, “দু’জনই অত্যন্ত প্রভাবশালী। দু’টি ক্ষেত্রেই মামলার তদন্ত চলছে। নতুন তথ্য উঠে আসছে। এই মুহূর্তে এই মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া সঠিক হবে না”।
তবে দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর এক লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে বিচারক মুক্তি দেন সারদা কর্ণধার সুদীপ্ত সেন ও রোজভ্যালির কর্তা গৌতম কুণ্ডুকে। তবে এদের দু’জনের বিরুদ্ধেই এখনও একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি থেকে মুক্তি পেয়েছেন তারা। তাই এই দু’জনের এখনই জেল থেকে বাইরে বেরোনোর কোনও সম্ভাবনা নেই।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৩শে এপ্রিল গ্রেফতার করা হয় সুদীপ্ত সেনকে। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার হন তাঁর সঙ্গী দেবযানী মুখোপাধ্যায়ও। ২০১৪ সালে সারদা মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশ মেনে অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করে সিবিআই। সেই বছরই অক্টোবর মাসে সারদা কাণ্ডে প্রথম চার্জশিট পেশ করে সিবিআই।
সারদা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মামলায় প্রথম চার্জশিট পেশ করা হয়। এই চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন, দেবযানী মুখোপাধ্যায় এবং সারদার গ্রুপ মিডিয়া সিইও কুণাল ঘোষের নাম উঠে আসে। এই ঘটনায় ত০দন্ত করছে ইডি-ও।
অন্যদিকে ২০১৫ সালে রোজভ্যালিকাণ্ডে গ্রেফতার করা হয় গৌতম কুণ্ডুকে। ২৫শে মার্চ গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত তিনি ইডির হেফাজতে ছিলেন। এরপর তাঁর জেল হেফাজত হয়।





