আর কিছুদিন পরই ৭৫ বছর স্বাধীনতা দিবস পালন করবে পাকিস্তান। কিন্তু এই ৭৫ বছরেও নিয়মের কোনও নড়চড় হল না প্রতিবেশী দেশে। রীতি মেনেই আগের সব প্রধানমন্ত্রীদের মতোই গদি ছাড়লেন ইমরান খানও।
আসলে পাক ইতিহাসে এর আগে কোনও প্রধানমন্ত্রীই মেয়াদকাল অর্থাৎ ৫ বছর টানা পদে থাকতে পারেন নি। ৫ বছরের সময় পূর্ণ হওয়ার আগেই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রত্যেকে। ৭৫ বছর ধরেই এমনটাই চলে আসছে। আর ইমরানের ক্ষেত্রেও এর অন্যথা হল না।
পাক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় নতুন এক পাকিস্তান গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ইমরান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নতুন পাকিস্তান গড়া তো দূর, পুরনো পাকিস্তানের অবস্থাই আরও খারাপ হয়ে যায় ইমরানের আমলে। মুখে জঙ্গি দমন, জঙ্গি গতিবিধিতে রাশ টানার কথা বললেও, ইমরানের শাসনকালেই পাকিস্তানে জঙ্গি গতিবিধি আরও বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। আর চীনের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্যও ইমরানের কাল হয়ে দাঁড়ায়।
দেশে বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেলেও ইমরান সেদিকে নজর না দিয়ে তালিবানকে বিশ্বের সমর্থন পাইয়ে দেওয়ার জন্য আদাজল খেয়ে পড়েছিলেন। এর জেরে দেশের বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি আমজনতাও ক্ষিপ্ত ছিল ইমরানের উপর। আর এই সুযোগেই বিরোধীরা সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন।
এই অনাস্থা নিয়েও প্রতিবেশী রাষ্ট্রে কম নাটক হয়নি। ইমরান খান ভোট নিয়ে ভয় পেয়ে সংসদই ভেঙে দেন। ইস্তফা তিনি দেবেন না, এমনটাই জানান তিনি। এই কারণে গত শনিবার সংসদে অনাস্থা প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে ইমরানের স্নেহের স্পিকার পদত্যাগ করেন।
কিন্তু তাও লাভের লাভ কিছুই হল না। সংসদে ইমরানের পদত্যাগের জন্য ভোট পড়ে ১৭৪টি। আর এর সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানের ইতিহাসে ইমরানের শাসনকালের অবসান ঘটে। এবার দেখার যে ইমরান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান কী না! তবে সেই সম্ভাবনাও কম কারণ বিদেশে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাঁর। পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হতে চলেছেন, এখন সেটাই দেখার!






