প্রথম যখন আমরা কথা বলতে শিখি, তখন হয়ত আমাদের মুখ থেকে প্রথম যে শব্দটি উচ্চারিত হয়, তা হয় মা। আসলে, মায়ের সঙ্গে তো আমাদের নাড়ির সম্পর্ক, তাই হয়ত অজান্তেই প্রথম বুলি মা-ই বেরিয়ে আসে। একজন মা তাঁর সন্তানের জন্য সারাজীবন যা আত্মত্যাগ করেন, তা আর অন্য কারোর পক্ষে সম্ভব নয়।
সন্তান জন্ম দেওয়ার আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় এক মায়ের আত্মত্যাগের লড়াই, আর তা চলতে থাকে আমৃত্যু। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমরা নানান ভিডিও দেখি। কখনও কোনও সন্তান ও মায়ের প্রসঙ্গে ভিডিও এলেই আমরাও যেন কেমন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। অজান্তেই চোখের কোণের কাছটা কেমন যেন চিকচিক করে ওঠে।
এবার তেমনটাই ঘটল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হল যা দেখে চোখ ভিজেছে নেটিজেনদের। একজন মা যে কতটা শক্তিশালী হতে পারেন আর সন্তানকে ভালো রাখতে যে এক মা কতদূর পর্যন্ত যেতে পারেন, তাই-ই ফুটে উঠেছে এই ভিডিওর মাধ্যমে।
এই ভিডিও প্রায় দু’বছর আগেকার হলেও সম্প্রতি তা আবার বেশ ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে সুইগির এক হোম ডেলিভারি মহিলা কর্মচারী তাঁর ছোট্ট সন্তানকে কোলের কাছে নিয়েই স্কুটার চালিয়ে খাবার ডেলিভারি করছেন। রোদের মধ্যে ঘুরে ঘুরেই সন্তানকে যত্ন করে নিজের কাছে রেখে নিজের কাজ করে যাচ্ছেন মহিলা।
এমন ঘটনা ঘটেছে কেরালাতে। ওই মহিলা কর্মচারীর পাশ দিয়ে যাওয়া এক বাইকআরোহী এই ভিডিওটি তোলেন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় এই ভিডিও। নেটিজেনরা যেন নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারেন নি এই ভিডিও দেখে। সকলেই মহিলার এই জীবনসংগ্রামকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।
কিন্তু কেন সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই কাজে বেরোতে হয় ওই মহিলাকে? জানা গিয়েছে, মহিলার বাড়িতে আর কেউ নেই যে বাচ্চাটাকে দেখাশোনা করবে। এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই মহিলা জানান যে তাঁর সন্তানকে তিনি সপ্তাহের ৬ দিন একটি নার্সারিতে রেখে আসেন ঠিকই, কিন্তু রবিবার নার্সারি বন্ধ থাকায় বাচ্চাকে নিয়েও কাজ করতে হয় তাঁকে।
মহিলার কথায়, তাঁর স্বামীকে তিনি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন বলে তাদের বাড়ির কেউ তাদের এই বিয়ে মেনে নেয়নি। তাঁর স্বামী কিছু বছর আগে আরব চলে যান কাজের সূত্রে। সেখানে স্বল্প মাইনের একটি চাকরি করেন তিনি। আর মহিলা এখানে। চাকরির জন্য একটি কোর্স করছেন তিনি। সেই কোর্সের টাকা যোগান দিতেই খাবার হোম ডেলিভারির কাজ করেন তিনি।





