চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তেহট্টের তৃণমূল বিধায়ক তাপস সাহার আপ্তসহায়ক প্রবীর কয়ালকে। এবার তাঁকে নিয়েই বিস্ফোরক দাবী করলেন তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ি।
তাদের দাবী, বিধায়ক তাপস সাহার গাড়ির তেল থেকে শুরু করে নানান খরচ মেটাতেন প্রবীরই। এমনকি, তারা এও দাবী করেছেন যে প্রবীর তৃণমূল ফান্ডে মোটা টাকা দিত নিয়মিত। এর জেরে বিধায়ক তাপস সাহা যে দাবী করেছিলেন যে প্রবীরের সঙ্গে তাঁর কোনও আর্থিক লেনদেন ছিল না, তা কার্যত নস্যাৎ হয়ে গিয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার রায়চক থেকে প্রবীর কয়াল ও তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে দুর্নীতি দমন শাখা। চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে প্রবীরের বিরুদ্ধে। তেহট্টের বাসিন্দাদের দাবী, প্রবীরকে না জানিয়ে বিধায়কের কাছাকাছি কেউ যেতে পর্যন্ত পারত না। কিন্তু এই সমস্ত দাবী অস্বীকার করে বিধায়ক তাপস সাহা দাবী করেন যে তিনি প্রবীর কয়ালকে চিনতেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর সঙ্গে কোনও আর্থিক লেনদেন ছিল না।
এবার এই দাবীর সম্পূর্ণ উল্টো দাবী করলেন প্রবীরের স্ত্রী পিয়ালি কয়াল। জানা গিয়েছে, তেহট্টের খাসপুরে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই থাকতেন প্রবীর। কিন্তু সারা সপ্তাহনাকি তাঁর দেখাই পাওয়া যেত না। সোমবার বেরিয়ে শনিবার ফিরতেন তিনি। পিয়ালিদেবীর কথায়, “বাড়িতে অনেক মানুষ যাতায়াত করত। টাকা পয়সা লেনদেন হত। কিন্তু এসব ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেই মারধর করত। আমি বলেছিলাম এসব ছেড়ে দেও। ও বলেছিল, কিচ্ছু হবে না। মাথার ওপর বড় হাত আছে”।
এদিকে, পিয়ালিদেবীর বাবা সাধনবাবুর দাবী করে বলেন, “এসব নিয়ে প্রশ্ন করলে আমাদেরও মারধর করত প্রবীর”। এই বলে স্ত্রী শেফালির শরীরে কালসিঁটে দাগ দেখান তিনি। পেশায় টোটোচালক সাধনবাবুর বিস্ফোরক দাবী, “টাকা কি ও সব একা খেয়েছে? পার্টি ফান্ডে নিয়মিত মোটা টাকা দিত। তাপস সাহার ভোটের সময় প্রচুর খরচ করেছে। এছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত খরচেরও অনেকটা চালাত প্রবীর”।
এমনকি, স্থানীয় পেট্রোল পাম্পের মালিক তিলক ঘোষ জানান যে বিধায়ক তাঁর পেট্রোল পাম্প থেকেই তেল ভরাতেন। আর সেই তেলের টাকা মেটাত প্রবীর। এমনকি, কয়েকদিন আগে পর্যন্তও তাপসবাবুর যে গাড়িটি করে ঘুরে বেড়াতেন, সেই গাড়িটিও প্রবীরের স্ত্রী পিয়ালির নামেই কেনা বলে জানা গিয়েছে।






