ফের একবার প্রশ্নের মুখে পড়ল বহরমপুরের মহিলাদের হস্টেলের নিরাপত্তা। ভোর রাতে এক যুবক বোরখা পরে মহিলা সেজে মহিলাদের হস্টেলে ঢুকলেন। কিন্তু তার জুতো দেখে সন্দেহ হওয়ায় সেই যুবককে ধরে ফেলে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ। এরপর তাকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
কিছুদিন আগেই বহরমপুরের গোরাবাজারের মেয়েদের হস্টেলের সামনেই প্রেমিকাকে নৃশংসভাবে খুন করে তার প্রেমিক। এরপর থেকেই ওই এলাকায় নিরাপত্তা বেশ বাড়ানো হয়েছে, মেয়েদের হস্টেলগুলিতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই নিরাপত্তার ফাঁক গলে বোরখা ছদ্মবেশে গোরাবাজারের ভাগীরথী হস্টেলে ঢুকে পড়লেন এক যুবক।
জানা গিয়েছে, গতকাল, শুক্রবার ভোরে গোরাবাজারের ভাগীরথি হস্টেলে বোরখা পরে এক যুবতী আসেন। তিনি জানান যে হস্টেলের আবাসিক এক তরুণীর ঘরে যাবেন তিনি। মহিলাকে দেখে হস্টেলের মালিক বাধা দেননি প্রথমে। কিন্তু তিনি জুতো খুলে ঘরে ঢুকতেই আসল ঘটনা ধরা পড়ে। দেখা যায়যে ওই বোরখা পরা মহিলার পায়ে পুরুষদের জুতো।
সঙ্গে সঙ্গে আবাসিক তরুণীর ঘরে ঢোকেন তিনি। আর ঘরে ঢুকতেই চক্ষু ছানাবড়া। বোরখা পরে সে মহিলা ঢুকেছিলেন, দেখা যায় তিনি আসলে একজন পুরুষ। এরপরই ওই যুবককে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয় ও পরবর্তীতে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, ধৃত ওই যুবকের নাম রঞ্জন। সে জানায় যে সে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। তার কাছ থেকে বৃহস্পতিবার রাতের কলকাতা-বহরমপুরের ট্রেনের টিকিট পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। ওই হস্টেলে অপর্ণা সেন নামের এক তরুণীর সঙ্গে সে দেখা করতে গিয়েছিল যে জানা যায়।
স্থানীয়দের জেরার মুখে ওই যুবক জানায় যে কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার পরিচয় হয় অপর্ণার সঙ্গে। দু’জনের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গতকাল তার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে অপর্ণা। দেখা করতে রাতেই ট্রেনে করে বহরমপুর চলে আসে রঞ্জন। ট্রেনে ওঠার আগে বোরখা কিনে নিয়েছিল সে। সেই বোরখা পরে মহিলাদের হস্টেলে ঢোকে সে। কিন্তু জুতোটা পাল্টানোর কথা ভুলে গিয়েছিল রঞ্জন।






