গত মার্চ মাসে গুলি করে খুন করা হয় ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুকে (Tapan Kandu)। এই কারণে সেই ওয়ার্ড থেকে হয় উপনির্বাচন (by-election)। আর সেই উপনির্বাচনে জয়ী হলেন তপন কান্দুর ভাইপো মিঠুন কান্দু (Mithun Kandu)। এদিন জয়ের পর মিঠুন বলেন, “কাকিমার চোখের জলে এই ভোট। এই জয় কাঙ্খিত জয় ছিল। কাকুর স্বপ্ন পূরণ করব”।
ঝালদার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে পেরেছে কংগ্রেস। এই ওয়ার্ড থেকে জয়ী হলেন নিহত কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর ভাইপো মিঠুন কান্দু। জয়ের পর মিঠুন কান্দু বলেন, “আমরা জয়ী হয়েছি । জয়ী হব এটা আশা-ই ছিল। ৭৭৮ ভোটের লিড হয়েছে। আমার কাকুর যে স্বপ্ন ছিল, ওয়ার্ডের লোকের জন্য কাজ করব, সেটা আমি পূরণ করব। রাস্তা, জল ,ড্রেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। দরকারে মানুষকে চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে যাব। বিরোধী দলে থেকেও অবশ্যই কাজ করব”।
বলে রাখি, মিঠুন আসলে সিভিক ভলেন্টিয়ারের চাকরি করতেন। কোনওদিনই রাজনীতিতে আসার কোনও ইচ্ছে ছিল না তাঁর। তবে পরিস্থিতি ও পরিবেশ তাঁকে শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে টেনে এনেছে।
ঝালদা পুরসভার উপনির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১,৩৭৯ জন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ১,১১৫ জম্নের/ কংগ্রেস প্রার্থী মিঠুন কান্দুর পেয়েছেন ৯৩০টি ভোট। অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী জগন্নাথ রজক পেয়েছেন ১৫২টি ভোট। আর বিজেপির পরেশ দাস পেয়েছেন মাত্র ৩৩ ভোট।
ভোটের ফলাফলের পরিসংখ্যান বলেই দিচ্ছে যে তৃণমূল কার্যত কোনও লড়াইয়ে ছিলই না। পুরসভার উপনির্বাচনে শাসকদল লড়তেই পারেনি। তাদের ঝুলিতে মাত্র দেড়শো ভোট। যে কারণে এই ফলাফল নিয়ে তৃণমূল প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, “ভোটে অন্তর্ঘাত হয়েছে”।
অন্যদিকে আবার এই উপনির্বাচনে বামেরা কোনও প্রার্থী দেয়নি। প্রসঙ্গত, তপন কান্দু দীর্ঘদিন ফরওয়ার্ড ব্লকের কাউন্সিলর ছিলেন। তাই তাঁর খুনের প্রতিবাদ থেকেই এই কেন্দ্র থেকে কোনও প্রার্থী দেয়নি বামেরা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উপনির্বাচনে বামেদের ভোটও গিয়েছে কংগ্রেসে অর্থাৎ মিঠুনের ঝুলিতে। বলে রাখি, তপন কান্দু খুনের মামলার তদন্ত করছে সিবিআই।





