অভ্যাস বদলান নি! নিজের পুরনো পেশাকে আঁকড়ে ধরে এখনও বাজারে সবজিই বিক্রি করছেন তৃণমূল কাউন্সিলর

পুরনো অভ্যাস কী আর এত সহজে বদলানো যায়! হ্যাঁ, অনেকে চাইলেই তা পারেন বটে। কিন্তু তেমনটা চান নি দুর্গাপুরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। তাই জন্যই তো নিজের কাউন্সিলর হওয়ার পরও নিজের পুরনো পেশাকেই আঁকড়ে ধরে রেখেছেন শিপুল সাহা। জনপ্রতিনিধি হলেও এখনও তাঁর পরিচয় সবজি বিক্রেতা হিসেবেই।

একদিকে তৃণমূলের নানান নেতাদের নামে যখন নানান দুর্নীতির অভিযোগ আসছে, সেখানে দাঁড়িয়ে ব্যতিক্রম শিপুল সাহা। প্রতিদিন ভোর হলেই সবজি হাতে বাজারে যান শিপুলবাবু। দুর্গাপুরের সেন মার্কেটে ভিড়ের মধ্যে গলায় গামছা জড়িয়ে চিৎকার করে করে সবজি বিক্রি করতে দেখা যায় শিপুলবাবুকে। এ এক অতি পরিচিত দৃশ্য।

সবজি বিক্রি শেষ হলে বেলার দিকে এলাকার মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য বসেন দলীয় কার্যালয়ে। দুপুর হতেই নানান বিষয় নিয়ে পুরসভায় হাজির হন শিপুলবাবু। আর বিকেল হলেই বেরিয়ে পড়েন এলাকা পরিদর্শনে। সন্ধ্যে পর্যন্ত স্থানীয় এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখেন তিনি। আর সন্ধ্যের সময় তাঁর ঠিকানা দলীয় কার্যালয়। সেখানে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন শিপুল সাহা।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, মাত্র ৮ বছর বয়স থেকেই হাবড়া স্টেশনে শশা বিক্রি শুরু করেন শিপুলবাবু। আর্থিক অনটনের জেরে ১৯৮৪ সালে তাঁর পরিবার চলে আসে দুর্গাপুরে। সেখানে শ্রমিকনগরের একটি বাড়িতে ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন স্বপরিবারে। বর্তমানেও শিপুলবাবুর নিজস্ব বাড়ি নেই। শিপুলবাবু নিজের স্ত্রী, দুই সন্তান ও তাঁর বাবাকে নিয়ে নিজের শ্বশুরবাড়িতে থাকেন।  

শিপুলবাবু বলেন, “শ্রমিকনগর স্পোর্টিং ক্লাবের সদস্য হয়ে সামাজিক কাজ শুরু করেছিলাম। ১৯৯২ সালে রাজনৈতিক জীবন শুরু করি জাতীয় কংগ্রেসের হাত ধরে। ১৯৯৮ সালে মাননীয়া মখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস দল গড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল দলে যোগদান করি। পরবর্তীকালে বুথ স্তর থেকে ওয়ার্ডের সভাপতি হই। ২০১৭ সালে প্রথমবার কাউন্সিলার পদে নির্বাচিত হই। সেই নির্বাচনে সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস ও নির্দল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ১ হাজার ৩০০ ভোটে জয়ী হই”।

তিনি আরও জানান, “প্রথম প্রথম কাউন্সিলর হিসেবে ৬ হাজার ৭০০ টাকা মাসিক ভাতা পেতাম। কয়েক বছর ধরে ৯ হাজার ৮০০ টাকা ভাতা পাই। কিন্তু, সেই টাকা দিয়ে কিছুই হয় না। তাই সবজি বিক্রি আর ছাড়তে পারিনি। ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্যই সকালবেলায় সবজি বিক্রি করে রুটিরুজি জুটিয়ে তারপরে জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের কাজ শুরু করি। সবজি বিক্রি আমার পেশা তাই এই পেশাকে আমি বড় করে দেখি। আগামীদিনেও সবজিই বিক্রি করে যাব”।

এই ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা জানান, “শিপুল কাউন্সিলর হয়ে এলাকায় প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। কিন্তু, কাউন্সিলর হওয়ার পড়ে এখনও পর্যন্ত তাঁর চালচলনে কোনও পরিবর্তন হয়নি। সেই আগের মতোই রয়ে গিয়েছেন তিনি। তাঁর কথাবার্তা, ব্যবহার কোনও কিছুতেই কোনও পরিবর্তন আসেনি। এখনও সেই বাজারে বসে সবজি বিক্রি করেন”।

আরও অন্যান্য খবর