বাবা তো তৃণমূলে, তবে ছেলে পবন সিং বিজেপিতে কেন, অর্জুনের ব্যর্থতা নাকি দু’দিক রক্ষার জন্য বড়সড় চাল?

ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ হলেন অর্জুন সিং (Arjun Singh)। তবে ‘বিজেপি’ (BJP) কথাটা শুধুমাত্র যেন খাতায়কলমের জন্যই। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে থেকে ‘দম বন্ধ’ হয়ে অর্জুন সিং ক্ষমতার জন্যই যোগ দেন বিজেপিতে। ক্ষমতা পানও তিনি। ব্যারাকপুরের সাংসদ হন। অর্জুনের পিছন পিছন তাঁর ছেলে পবন সিংও (Pawan Singh) যোগ দেন বিজেপিতে।

হঠাৎই ছন্দপতন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবির পর এক এক করে অনেক নেতারাই যারা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল, তারা ধীরে ধীরে ঘর ওয়াপসি করেছে। ফিরে গিয়েছে তৃণমূলে। ব্যতিক্রমী নন অর্জুনও। তিনিও এই কিছুমাস আগেই পুরনো দলে ফিরেছেন ঠিকই, কিন্তু এবার আর তাঁর পিছন পিছন তাঁর ছেলেকে যেতে দেখা যায়নি। ছেলেকে পুরনো দলে না ফেরাতে পারা, সেটা কী অর্জুনের ব্যর্থতা, নাকি সিং পরিবারের মাথায় ঘুরছে অন্য কোনও চাল?

এদিকে কিন্তু মুকুল রায় যখন বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন, তাঁর পিছু পিছু তাঁর ছেলে শুভ্রাংশুকেও দেখা যায় গুটি গুটি পায়ে ঘাসফুলে ফিরে আসতে। শুভ্রাংশু নিজে দু’বার তৃণমূলের টিকিটে জিতেই বিধায়ক হয়েছিলেন বটে।

তবে মুকুল রায় যে আদৌ কোন শিবিরে রয়েছেন, তা বোঝা বড় দায়। একদিকে বিধানসভার স্পিকার দাবী করছেন যে মুকুল বিজেপিরই বিধায়ক, তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কোনও প্রমাণ নেই। আর অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন মুকুল নিজের মুখে অবলীলায় বলে দিলেন যে তিনি বিজেপির বিধায়ক নন। তবে বিজেপির বিধায়ক পদটি কেন ধরে রেখেছেন তিনি?

মুকুল-পুত্র যেমন বাপের সুপুত্রটি হয়ে বাবার সঙ্গে তৃণমূলে ফিরে গেলেন, অর্জুন-পুত্রও তেমনটাই করবেন বলে মনে করেছিল অনেকেই। কিন্তু বাবার এমন অবাধ্য কেন হলেন পবন সিং? রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের  দিন অর্জুন সিং তৃণমূলের বিধায়ক-সাংসদদের সঙ্গে এসে ভোট দিলেও সেই দলে ছিলেন না পবন। সেই কারণেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বেশ ধন্ধ রয়েছে। যদিও অর্জুন তৃণমূলে যোগ দেওয়ার দিন পবনের কথা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন, “বাবা যখন আছে, ছেলে আর কোথায় যাবে? আজকেই এখানে আসত। কিন্তু ওর শরীরটা একটু খারাপ। মামার বাড়ি গিয়ে লু লেগে গিয়েছিল। আজকেই যেত। বাবা যখন গিয়েছে, আর কোথায় যাবে”?

কিন্তু এদিকে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ছেলের উপস্থিতি প্রসঙ্গে অর্জুন বলেন, “পবন তো বড় হয়েছে। ও দু’বারের বিধায়ক। নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও কথা হয়নি”। অর্জুনের দু’দিনের কথার মধ্যে কেমন যেন একটা অন্য সুর শোনা গেল না? তাহলে কী সিং পরিবারের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাথাচাড়া দিল? নাকি বাবা ও ছেলে মিলে অন্য খেলাই চালাচ্ছে? দুই নৌকাতেই পা দিয়েই নিজেদের বৈতরণী পার করার পরিকল্পনা কী অর্জুন-পবনের? নাকি একুশের জুলাইয়ের মঞ্চে পবনকে ফিরতে দেখা যাবে ঘাসফুল শিবিরে? উত্তরের দিকে তাকিয়ে অনেকেই।

RELATED Articles