চারদিকে ছড়িয়ে ভাঙা হাঁড়ি, মহুয়া খেয়ে নেশায় মত্ত হাতির পাল, ঘুম ভাঙাতে ডাক পড়ল বনদফতরে

গ্রামের দিকে শীত পড়া মানেই মহুয়ার রস সেবন। মহুয়া ফুল থেকে রস বের করে তা থেকে বানানো হয় দেশি ম’দ। ওড়িশার শিলিপদ গ্রামের বাসিন্দারা জঙ্গলে গিয়েছিলেন সেই মহুয়ার রস সংগ্রহ করতেই। কিন্তু জঙ্গলের ভিতর পৌঁছে তারা যা দেখলেন, তাতে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ারই জোগাড়।

জঙ্গলে তারা দেখেন যে সমস্ত মহুয়ার রস শেষ আর এদিন ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ভাঙা হাঁড়ি। কিন্তু এত মহুয়ার রস খেল কে? এই নিয়ে যখন সকলে ধন্ধে রয়েছেন, তখনই জঙ্গলের আরও কিছুটা ভিতরে যেতেই মিলল রহস্যের সমাধান। দেখা গেল সেই মহুয়া চোর আসলে একপাল হাতি। আর সেই মহুয়া খেয়ে নেশায় বুঁদ হয়ে অঘোরে ঘুমোচ্ছে তারা।

ওড়িশার কেওনঝড় জেলার শিলিপদ কাজু জঙ্গলে গ্রামবাসীরা ঢুকতেই দেখতে পান, ২৪টি বড় বড় হাতি মহুয়া খেয়ে ঘুমোচ্ছে। জঙ্গলের এক জায়গায় একটি বড় পাত্রেই জলের মধ্যে ভিজিয়ে রাখা ছিল মহুয়া ফুল। জল ভেবেই হাতির পাল ওই মহুয়ার রস খেয়ে ফেলে। তারপর আর কী! নেশায় বুঁদ হয়ে যায় হাতি পাল। জঙ্গলেই সুখনিদ্রা লাগায় তারা। গ্রামবাসীদের চিৎকার-চেঁচামেচিতেও তাদের ঘুম ভাঙেনি।

এক গ্রামবাসী বলেন, “ভোর ৬টা নাগাদ আমরা জঙ্গলে গিয়েছিলাম মহুয়া তৈরি করতে। কিন্তু গিয়ে দেখতে পাই সমস্ত হাঁড়ি ভাঙা, হাঁড়ির ভিতরে রাখা মহুয়া উধাও। কিছু দূর এগোতেই দেখতে পাই একপাল হাতি ঘুমোচ্ছে। তখনই বুঝতে পারি যে হাতির পাল মহুয়া খেয়ে নিয়েছে। নেশায় বুঁদ হয়ে তারা ঘুমোচ্ছে”।

জানা গিয়েছে, ওই হাতির পালের মধ্যে ছিল ৬টি মহিলা হাতি ও ৯টি হাতির শাবক। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, মহুয়া পুরোপুরি তৈরি ছিল না। জলে ভেজানো কাঁচা ফুল খেয়েই মত্ত হয়ে পড়ে হাতির দল। তারা হাতিগুলিকে জাগানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়,। এরপরই খবর দেওয়া হয় বনদফতরে। বন দফতরের আধিকারিকরা এসে বাজনা বাজিয়ে হাতির দলের ঘুম ভাঙিয়ে জঙ্গলের ভিতর পাঠায় তাদের।

ফরেস্ট রেঞ্জার ঘাসিরাম পাত্র জানান, অনেক চেষ্টার পর সকাল ১০টা নাগাদ ওই হাতির পালকে ঘুম থেকে তোলা সম্ভব হয়। ঘুম থেকে উঠে হাতির পাল গভীর জঙ্গলের ভিতরে চলে যায়। তবে মহুয়া খেয়েই হাতির পাল নেশায় বুঁদ হয়ে গিয়েছিল কী না, তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেননি বনদফতর।

আরও অন্যান্য খবর