বল ভেবে বোমা নিয়ে খেলতে গিয়েছিল। তাতে বিস্ফোরণ ঘটেই প্রাণ গেল এক ফুটফুটে শিশুর। তৃণমূল কর্মীর বাড়িতেই রাখা ছিল বোমা। সেই বোমা ফেটেই মৃত্যু হল তারই ভাগ্নির। ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাটের মিনাখাঁ থানার চাপালি গ্রাম পঞ্চায়েতের গাইন পাড়ায়। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূল কর্মী আবুল হোসেন গাইনকে।
সূত্রের খবর, গতকাল ওই তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন তাঁর কিছু আত্মীয়স্বজন। এসেছিল আবুল হোসেনের আট বছরের ভাগ্নি ঝুমা খাতুনও। এদিন সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ খেলতে গিয়ে বিচুলির গাদা থেকে বল ভেবে কিছু একটা কুড়োয় ঝুমা। তা হাতে নিতেই ঘটে বিস্ফোরণ।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই শিশুর। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বসিরহাট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৌতম ব্যানার্জি, মিনাখাঁর এসডিপিও আমিনুল ইসলাম ও মিনাখাঁ থানার পুলিশ আধিকারিক সিদ্ধার্থ মণ্ডলের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। মৃতদেহ উদ্ধার করে মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু, কীভাবে ওখানে বোমা পৌঁছাল তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। কেনই বা বিচলির গাদার মধ্যে বোমা মজুদ করে রাখা ছিল? সে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি কৌশিক দত্ত বলেন, “একটা অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। একটা শোকের পরিবেশ রয়েছে। পঞ্চায়েত ভোটের আগে বিরোধীরা আমাদের কর্মীদের কালিমালিপ্ত করার জন্য বেশ কিছু যড়যন্ত্র ঘটছে। এর সঙ্গে আমাদের কেউ যুক্ত নয়। আমরা চাই প্রকৃত ঘটনার তদন্ত যুক্ত। কিন্তু আমরা খবর পেয়েছি বিজেপি এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে”।
এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। নিস্তব্ধ গোটা এলাকা। এই ঘটনায় পুলিশ মূল অভিযুক্ত আবু হোসেন গাইনকে গ্রেফতার করেছে। আজ, বৃহস্পতিবার তাঁকে মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। মিনাখাঁ থানার পুলিশ অভিযুক্তকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বলে খবর।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, “সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। এই ঘটনা আমাদের কাছে আশঙ্কার। তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে বোমা কোথা থেকে এল। বোমা নিয়ে কী করছিল তদন্ত হওয়া উচিত”।





