এই বছর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হলেন বাংলার তিন কৃতি ব্যক্তিত্ব। তাদের মধ্যে দু’জনই আবার জলপাইগুড়ির বাসিন্দা। নাম মঙ্গলকান্তি রায় ও ধনীরাম টোটো। শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছেন তারা। আর তৃতীয় জন হলেন প্রীতিকণা গোস্বামী যিনি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য কাঁথাস্টিচকে বাঁচিয়ে রাখতে কঠোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
১। প্রীতিকণা গোস্বামী: প্রীতিকণা গোস্বামী দক্ষিণ ২৪ পরগনা বাসিন্দা। তাঁর যাত্রাপথ কম আকর্ষণীয় নয়। ঐতিহ্যবাহী কাঁথাস্টিচকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন এই মহিলা। এর পাশাপাশি গ্রামের মহিলাদের ক্ষমতায়নেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। মহিলাদের কাঁথাস্টিচে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কেন্দ্রও চালান প্রীতিকণাদেবী। শিল্প-কলা বিভাগে পদ্মশ্রী পেয়েছেন তিনি।
২। মঙ্গলকান্তি রায়: শিল্প-কলা বিভাগে পদ্মশ্রী পেয়েছেন মঙ্গলকান্তি রায়। তাঁর বয়স ১০২। সারিন্দার মাধ্যমে নিজের জাদু ছড়িয়ে আসছেন তিনি। বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমের পাখিদের সুর তুলে শ্রোতাদের স্রেফ মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন। যিনি আদতে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা। শুধু তাই নয়, সারিন্দার ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং নয়া প্রজন্মে সারিন্দার জাদুতে মুগ্ধ করতে আট দশক ধরে ওয়ার্কশপ করে আসছেন।
৩। ধনীরাম টোটো: তারা কোনও প্রথাগত প্রশিক্ষণ নেই। শুধুমাত্র ভালোবাসা থেকে এবং পুরনো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে উপভাষা নিয়ে কাজ করেন ধনীরাম টোটো। জলপাইগুড়ির টোটোপাড়ার বছর ৫৭-এর এই বাসিন্দা ‘টোটো’ (ডুমরা থিরতে) ভাষাকে রক্ষা করেছেন।
তিনি ‘টোটো’ ভাষালিপির জনক। এই ভাষাকে বিলুপ্তপ্রায় ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইউনেস্কো। এই ভাষায় ৩৭টি অক্ষর রয়েছে। ‘টোটো’ ভাষায় দু’টি উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। সেই ধনীরাম টোটোকেই এবার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হল।
এছাড়াও, বাংলা থেকে পদ্ম পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ওআরএসের জনক দিলীপ মহালনাবীশ। মেডিসিন মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ পেয়েছেন তিনি।






