‘আমার ঘরে-বাইরে শত্রু, যে কোনওদিন খুন হয়ে যেতে পারি’, প্রাণহানির আশঙ্কা করলেন অনুব্রত বিরোধী তৃণমূল নেতা কাজল শেখ

সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayet Election)। কিন্তু এর আগেই নিজের প্রাণহানির আশঙ্কা করলেন শাসক দলেরই নেতা। বীরভূমে (Birbhum) তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য কাজল শেখ (Kajal Sheikh) জানান যে তাঁর ঘরে-বাইরে শত্রু রয়েছে। এমনকি, যে কোনও দিন তিনি খুন হয়ে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তৃণমূল নেতা। তাঁর এহেন মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই বিরোধীদের দাবী তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের (inner clash) কারণেই এমন আশঙ্কা করছেন কাজল শেখ। অন্যদিকে আবার তৃণমূলের দাবী, গুণ্ডা দিয়ে তৃণমূল নেতাদের খুন করছে বিজেপি। এই কারণেই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কাজল শেখ।

গতকাল, মঙ্গলবার নানুর বিধানসভাত আমডহরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মন্দির প্রাঙ্গণে একটি জনসভা ছিল তৃণমূলের। এদিনের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা কোর কমিটির সদস্য কাজল শেখ, বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝি, শ্রীনিকেতন পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মিহির রায়। সভায় সকলের উপস্থিতিতেই নিজের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেন কাজল শেখ।

তিনি বলেন, “আমি যখন বাড়ি থেকে বের হই, আমার মা কপালে তিনটে চুমু খায়। ভয়ে ভয়ে থাকেন, হয়তো ছেলে আর ফিরবে না। যে কোনও জায়গায় খুন হয়ে যেতে পারি। তবু সত্যর পথ থেকে আমি সরব না। আমি জানি, আমার ঘরে-বাইরে শত্রু”।

এখানেই শেষ নয়, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নানুর এলাকায় খারাপ ফল হওয়ায় দলীয় নেতাদের একাংশকে এদিন দায়ী করেন কাজল শেখ। তাঁর কথায়, “দলীয় নেতাদের চলার পথ ভুল ছিল। তাই গত বিধানসভা নির্বাচনে কংকালী অঞ্চলে খারাপ ফল হয়”।

কাজল শেখের এহেন মন্তব্যের জবাব দেন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু রায়। তাঁর দাবী, “উনি এ ধরনের কথা কেন বললেন জানি না। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপি ক্যাডাররা কীভাবে তৃণমূল নেতাকে খুন করল, সেটা সবাই দেখেছে। তাই হয়তো এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি”। তবে তৃণমূলের এই দাবী মানতে নারাজ বিজেপি। তাদের পাল্টা দাবী, অনুব্রত মণ্ডলের গোষ্ঠীর হাতে খুন হওয়ারই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কাজল শেখ।

বলে রাখি, বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখ একই দলের প্রতিনিধি হলেও তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক সবসময়ই আদায়-কাঁচকলায়। তবে এখন জেলবন্দি অনুব্রত। আর কেষ্টহীন বোলপুরে এখন দায়িত্ব বেড়েছে কাজলের। কোর কমিটির সদস্য হয়েছেন তিনি। আর ঠিক এমন সময়ই তাঁর প্রাণসংশয় নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও অন্যান্য খবর