চলছে নন-ইন্টারলকিংয়ের কাজ। এর জেরে শিয়ালদহ মেইন শাখায় একগুচ্ছ লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর জেরে আজ, শনিবার চরম বিপাকে পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। নৈহাটি ও কল্যাণী স্টেশনের মধ্যে থার্ড লাইন ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। কিছু কিছু ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে।
যে ট্রেনগুলি চলছে, তার প্রতিটিই ২০-২৫ মিনিট দেরীতে চলছে। গত তিনদিন ধরে এই নন-ইন্টারলকিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এই কাজ চলবে। এর ফলে আরও কিছুদিন ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হবে। আগামীকাল, রবিবার ২৫ জোড়া লোকাল ট্রেন বাতিল হয়েছে। সোমবার বাতিল হয়েছে ২৬ জোড়া লোকাল ট্রেন। মঙ্গলবারও২৫ জোড়া ট্রেন বাতিল রয়েছে। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে।
আজ, শনিবার সকাল থেকেই কাঁকিনাড়া-সহ একাধিক স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ট্রেন। ট্রেনে দীর্ঘক্ষণ বসে যাত্রীরা। কী কারণে এমন হচ্ছে, তা জানেনই না তারা। এক যাত্রীর কথায়, “কোনও ঘোষণা নেই। শিয়ালদহ যাব। দীর্ঘক্ষণ ধরে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে। এরকম সমস্যা হলে আমরা কাজের জায়গায় পৌঁছব কীভাবে। ১৪ তারিখ থেকে আবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। এই সময় স্কুলে অনেক কাজ থাকে। কীভাবে সময়মতো পৌঁছব আর জবাবদিহিই বা কী করব”।
এই বিষয়ে পূর্ব রেলের সিপিআরও কৌশিক মিত্র বলেন, “নন-ইন্টারলকিংয়ের কাজ করা মানে পরবর্তীতে পরিষেবা আরও ভাল হবে। উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিকের মাঝখানে আমরা এই সময়টা বেছে নিয়েছি যাতে কারও কোনও সমস্যা না হয়। জানি মানুষের হয়ত একটু সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু ছাত্র ছাত্রীদের সমস্যা হবে না বলে এই সময়টা বেছে নিয়েছি। রাতের দিকে আমরা কাজ শুরু করি। হয়ত সকালের দিকে কাজ শেষ করতে একটু দেরী হচ্ছে। ২ দিন একটু কষ্ট করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে আমরা অনেকটা সুবিধা পাব”।
প্ল্যাটফর্মগুলিতে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। এই প্রসঙ্গে সিপিআরও বলেন, সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে। এরপরও ঘোষণা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে তা তারা দেখবেন বলে জানান। শুধুমাত্র নৈহাটি বা কল্যাণীই নয়, শান্তিপুর, রাণাঘাট ও আরও একাধিক স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ট্রেন। এর জেরে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, অফিস যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।






