শাসক দলের হাত ধরেই শিক্ষাক্ষেত্রে হয়েছে রাশি রাশি দুর্নীতি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে, টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে একাধিক প্রার্থীকে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জেরে গত বছরের জুলাই মাস থেকে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও জেলে রয়েছেন শিক্ষা দফতরেরই একাধিক আধিকারিক। এসবের মধ্যেই এবার দুর্নীতিতে নাম জড়াল তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরের।
গ্রুপ ডি-র পর এবার এসএসসি গ্রুপ-সি নিয়োগেও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। উত্তরপত্রে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। কোনও এক অদৃশ্য ম্যাজিকের ফলে কমিশনের সার্ভারে বদলে গিয়েছে প্রার্থীর নম্বর। কমিশনের তরফে উত্তরপত্রে কারচুপির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর সেই তালিকায় নাম রয়েছে বারাসাতের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দোলন বিশ্বাসের।
সেই নাম সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে যে কার সুপারিশে চাকরি পেয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী? তিনি যেসময় চাকরি পান, সেই সময় তিনি এলাকার কাউন্সিলর ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। চাকরি পেতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন কী দোলন? সেই প্রশ্নও উঠেছে। তবে এসএসসি এই তালিকা প্রকাশ করার পরই বাড়িতে বা স্কুল থেকে কার্যত ‘হাওয়া’ হয়ে গিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দোলন বিশ্বাস। এলাকায় ডাকাবুকো নেত্রী হিসেবেই পরিচিত তিনি। ২০১৭ সালের পর এলাকারই একটি স্কুলে তিনি চাকরি পান। এবার তাঁর নাম এসএসসি-র তালিকায় সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যে স্কুলে দোলন চাকরি পেয়েছিলেন, সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান যে তিনি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না। তাঁর কথায়, শিক্ষা দফতর থেকে তাঁকে কিছু জানানো হলে তবেই তিনি কোনও মন্তব্য করবেন। তিনি জানিয়েছেন যে ২০১৭ সালের পর স্কুলে যোগ দেন দোলন। গতকাল, শুক্রবার শরীর খারাপ থাকায় তিনি ছুটি নিয়েছেন।
এদিকে, বাড়িতেও দেখা মেলেনি দোলনের। তাঁর মা-বাবার কথায়, মেয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছেন। তাদের দাবী, তাদের মেয়ে এমএ পাশ করেছেন, নিজের যোগ্যতাতেই চাকরি পেয়েছেন তিনি। তবে এই ঘটনা নিয়ে বেশ রাজনৈতিক তরজা যে শুরু হয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।





