জাতীয় দলের তকমা হারিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমূল, এবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি পথে লড়াই করবেন মমতা

তৃণমূল (TMC) আর ‘সর্বভারতীয়’ দল নয়। গতকাল, সোমবার এমনটা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তরফে। এমনটা যে হবে, সে ধারণা বিগত কয়েকমাস ধরেই মিলছিল। অবশেষে গতকাল তা সত্যি হল। নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে যে কোনও দলকে জাতীয় দলের (national party) তকমা দিতে গেলে যেসমস্ত শর্তের প্রয়োজন হয়, তা তৃণমূলের নেই। সেই কারণেই তৃণমূলের থেকে কেড়ে নেওয়া হল সর্বভারতীয় তকমা।

কমিশনের এই নির্দেশ সামনে আসতেই কার্যত ক্ষোভ জারি করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। বছর গড়ালেই লোকসভা নির্বাচন। একদিকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লির মসনদ জয় করার উদ্দেশে জাতীয় রাজনীতিতে ঘাঁটি শক্ত করতে উদ্যত হচ্ছেন, এমন আবহে তৃণমূলের জাতীয় তকমা চলে যাওয়াটা যে মোটেই সমীচীন নয়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি পথে লড়াই করতে পারে তৃণমূল।

তৃণমূল বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় এই বিষয়ে জানান যে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে সঙ্গে কথা বলবেন। আগামীদিনে কী পদক্ষেপ করা হবে, সেই বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই কাজ করেছে কমিশন। এদিন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে সৌগত রায় বলেন, “সুপ্রিম কোর্টও বলে দিয়েছে যে নির্বাচন কমিশন কীভাবে চলছে। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই কাজ করেছে কমিশন। যা যা তথ্য দেওয়ার, সব দেওয়া হয়েছিল। তাও জাতীয় দলের তকমা বাতিল করেছে। যা যা করার আগামীদিনে দেখতে পাবেন”।

নির্বাচন কমিশনের সিম্বল অর্ডার সেকশন ৬বি অনুযায়ী, কোনও দলকে যদি জাতীয় দলের তকমা পেতে হয়, তাহলে তিনটি শর্তের মধ্যে একটি শর্ত পূরণ করতেই হবে। এক, ওই দলকে লোকসভা নির্বাচনে কমপক্ষে তিনটি রাজ্য থেকে ভোটে লড়তে হবে আর দেশের মোট আসনের অন্তত ২ শতাংশ ভোট পেতে হবে।

দুই নম্বর শর্ত হল, লোকসভা নির্বাচনে কমপক্ষে ৪টি রাজ্য থেকে ৬ শতাংশ ভোট পেতে হবে ও এক বা তার বেশি রাজ্য থেকে ৪টি করে আসন পেতে হবে। আর তৃতীয় শর্ত হল, ৪ বা তার বেশি রাজ্যে ওই দলকে রাজ্যদলের তকমা পেতে হবে। এই তিনটি শর্তের মধ্যে যে কোনও একটি শর্ত পূরণ করলেই জাতীয় দলের তকমা জুটবে কোনও রাজনৈতিক দলের। কিন্তু এই তিন শর্তের মধ্যে একটি শর্তও তৃণমূলের দিকে ছিল না।

কমিশনের তরফে তৃণমূলকে এ ব্যাপারে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। দলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন তাদের জাতীয় দলের তকমা রাখা হবে? কমিশন জানতে চেয়েছিল, দলের প্রতিনিধির এই বিষয়ে কী বক্তব্য রয়েছে। সেই কারণেই কমিশনে গিয়ে ফুল বেঞ্চের ঙ্গে সাক্ষাতও করেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। কিন্তু লাভ কিছুই হল না। জাতীয় দলের তকমা হারিয়ে এখন কার্যত রাগে ফুঁসছে ঘাসফুল শিবির।

RELATED Articles