ফের প্রকাশ্যে নবান্ন-রাজভবন সংঘাত। রাজ্যে যদি কোনও সাংবিধানিক বা শৃঙ্খলারক্ষার সংকট তৈরি হয়, তাহলে তিনি চুপচাপ হ্যামলেটের মতো বসে থাকবেন না, এমনটাই জানান রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের এহেন মন্তব্যের রীতিমতো ফুঁসে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “চুপচাপ বসে থাকবেন না তো কী করবেন, সকলের চাকরি খাবেন”?
সি ভি আনন্দ বোস রাজ্যপালের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমের দিকে তাঁর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ সুসম্পর্কই ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার চিড় ধরে নবান্ন-রাজভবনের সম্পর্কে। রাজ্যের নানান বিষয়ে বেশ কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজভবন। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শনে যাচ্ছেন রাজ্যপাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের হিসাব চেয়ে উপাচার্যদের রাজভবনে ডেকে পাঠাচ্ছেন।
আজ, সোমবার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যপাল। ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘হ্যামলেট’ নাটকের উপমা টানেন। বলেন, “রাজ্যে আইনগত বা সাংবিধানিক সংকট তৈরি হলে আমি শেক্সপিয়ারের হ্যামলেটের মতো চুপ করে বসে থাকব না”।
রাজ্যপালের নানান কাজের প্রেক্ষিতে কড়া অবস্থান নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “চেয়ারটা সম্মানের। কিন্তু দফতর চালায় উচ্চ শিক্ষাদপ্তর। আমিও মাথা ঘামাই না। একথা আমিও বলতে পারি না, আমার কথা না শুনলে ব্যবস্থা নেব। মনে রাখতে হবে সকলের লিমিটেশন রয়েছে”।
রাজ্যপালের বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদে থাকা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন মমতা। পুরনো আইন নিয়ে তিনি বলেন, “তখন রাজ্য়ে ১২টা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। তাই এই নিয়ম তৈরি হয়েছিল। এখন যদি বলেন, ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে, তাহলে উপাচার্যরা কী করবেন? পড়াশোনা করাবেন না কি এসব করবেন”?
রাজ্যপালকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের হিসেব দেওয়া প্রসঙ্গে মমতার মন্তব্য, “হিসেব দিতে হলে আমাদের দেবেন। রাজ্য সরকার এমন কিছু করে না যাতে আমাদের উপাচার্যদের সমস্যা হয়”।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদ থেকে রাজ্যপালকে সরানোর জন্য বিধানসভায় বিল পাস হয়েছিল। সেই বিল স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়েছে রাজ্যপালকে। এই প্রসঙ্গে মমতা এদিন বলেন, “ওঁকে বলব, পছন্দ না হলে ফেরত পাঠান। যাতে বিধানসভা আবার পাস করাতে পারি। অনেক বিধানসভায় এই বিল পাস হয়েছে”।






