পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন নিয়েও যেন নাটকের শেষ নেই রাজ্যে। দু’দিন আগে যে পঞ্চায়েত বোর্ড ছিল বিজেপির দখলে, তা হঠাৎই চলে গেল তৃণমূলের হাতে। এমনই বিস্ময়কর ঘটনা ঘটল হুগলির খানাকুলের অরুন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতে।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
আসলে হুগলির খানাকুল এক নম্বর ব্লকের অরুন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন সংখ্যা ২৩। এর মধ্যে তৃণমূল জিতেছিল ১৪টি আসন আর বিজেপি জেতে ৯টি আসনে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বোর্ড গঠনের কথা তৃণমূলেরই। কিন্তু বোর্ড গঠনের দিন দেখা যায় তিনজন জয়ী তৃণমূল সদস্য আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপির জেলা সভাপতি বিমান ঘোষের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন।
এর জেরে সমীকরণ উল্টে যায়। তিনজনের দলবদলে বিজেপির সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২-তে আর তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা হয়ে যায় ১১। সেই সময় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বোর্ড গঠন করে বিজেপি। প্রধান হিসাবে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দেবাশিস সিং-কে প্রধান নির্বাচিত করা হয়। আর অন্যদিকে উপপ্রধান হন বিজেপির টিকিট থেকে জয়ী প্রার্থী তনুশ্রী রায় দলুই।
কিন্তু এই বোর্ড গঠনের দু’দিন না পেরোতেই ফের নাটকীয় মোড়। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দুই সদস্যই অর্থাৎ সদ্য নির্বাচিত প্রধান দেবাশিস সিং এবং অসীমা কারক ফিরে যান তৃণমূলেই। গতকাল, শনিবার সন্ধ্যায় তারকেশ্বরে নিজের অফিসে তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন জেলা সভাপতি রামেন্দু সিংহ রায়। এর জেরে তৃণমূলের আসন সংখ্যা হয় ১৩ এবং বিজেপির ১১। আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সেই পঞ্চায়েতও চলে যায় তৃণমূলের দখলে।
কী জানান দেবাশিস সিং?
এই বিষয়ে দেবাশিস সিং বলেন, “আমাকে ভুল বুঝিয়ে বিজেপিতে যোগদান করিয়েছিল। আমি তৃণমূলেই ছিলাম, তৃণমূলেই থাকব”।
অন্যদিকে, এই ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের জেলা সভাপতি রামেন্দু সিংহরায় বলেন, “বোর্ড গঠনের দিন ওদের অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল। বিজেপির কবল থেকে মুক্ত হতেই ওরা আবার তৃণমূলে ফিরেছে। পালটা বিজেপির জেলা সভাপতি বিমান ঘোষ বলেন, তৃণমূল আমাদের ২ সদস্যকে তুলে নিয়ে গিয়ে দলবদল করিয়েছে। এসব করে লাভ হবে না পঞ্চায়েত আমাদেরই থাকবে”।





