রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার আওতায় যে সমস্ত এলাকা রয়েছে, সেখানকার গ্রাহকদের অভিযোগ গত বছরের তুলনায় তাদের বিদ্যুতের বিল তুলনামূলক অনেক বেশি এসেছে। একদিকে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আর অন্যদিকে এবার বিদ্যুতের এমন খরচ বৃদ্ধির ফলে রীতিমতো আতঙ্কে মধ্যবিত্তরা। প্রায় তিনগুণ বিদ্যুৎ খরচ বেড়েছে বলে দাবী গ্রাহকদের।
সারা বাংলা বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতি বা অ্যাবেকার অভিযোগ, রাজ্য সরকার চুপিসারে নানান ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এই অভিযোগ তুলে হ্যান্ডবিল ছাপিয়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলা হয়েছে সমিতির তরফে। তাদের এই প্রতিবাদকে সমর্থন করে রাজ্য সরকারকে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
কী অভিযোগ অ্যাবেকার?
নিয়ম অনুজায়িও, সরকারি বা বেসরকারি বণ্টন সংস্থাকে বিদ্যুতের যে কোনও ধরনের চার্জ বৃদ্ধির জন্য আর্জি জানাতে হয় রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে। কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেয়, সেই অনুযায়ী বাড়ে বিদ্যুতের খরচ।
সূত্রের খবর, গত মার্চে কমিশনের অনুমোদনে রাজ্য বণ্টন সংস্থার বিদ্যুৎ সংযোগের স্থায়ী (ফিক্সড) চার্জ অল্প বেড়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার না হলেও যে ন্যূনতম টাকা নেওয়া হত, তাও বেশ বেড়েছে। সংস্থার মতে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য প্রতি কিলোওয়াট আওয়ারে যে মাসুল নেওয়া হয়, তা দীর্ঘদিন ধরেই স্থির। তবে গ্রাহকদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাদের বিল আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে।
কী বললেন শুভেন্দু?
এই অভিযোগে রাজ্য সরকারকে বিঁধে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দু লেখেন, “পকেটমার সরকার হইতে সাবধান! বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির প্রতিবাদ আন্দোলনে আমার পূর্ণ সমর্থন রইল। ওঁদের আন্দোলন যুক্তিসঙ্গত। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বৈরাচারী সরকারের অতি চালাকি ধরা পড়ে গেছে। চুপি চুপি বিভিন্ন খাতে দাম বাড়িয়ে বিদ্যুতের বিল ব্যাপক ভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে এই সরকার। সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। এর একটা হেস্তনেস্ত না করলেই নয়। এই ভাবে লুকিয়ে চুরিয়ে দাম বৃদ্ধি, পকেটমারির সমান”।
অ্যাবেকার সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস বলছেন, “ফিক্সড চার্জ’ বৃদ্ধির জন্য মূলত ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থা, ছোট ব্যবসায়ী এবং নিম্নবিত্ত গ্রাহকদের আর্থিক খরচের বোঝা প্রচুর বেড়েছে। অনেকই সংযোগ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন”।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার দাবী, এই বছর অত্যন্ত গরমের জেরে বিদ্যুতের চাহিদা ও ব্যবহার বেড়েছে। সেই কারণেই বিদ্যুতের বিলও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গ্রাহকদের যুক্তি, বিলের পরিমাণ বাড়লেও, তা হাজার টাকা বৃদ্ধি পাওয়াটা কী অবাস্তব নয়? যেসমস্ত বাড়িতে এসি বা তেমন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চলে না, সেই গৃহস্থালিতেও বিদ্যুতের বিলের পরিমাণ অত্যধিক।






