প্রথমে স্থির ছিল বিশেষ ট্রেনে চেপেই দিল্লি যাত্রা করবে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। কিন্তু সেই ট্রেন বাতিল হওয়ায় পরবর্তীতে বাসে চেপেই দিল্লি রওনা দিয়েছেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। দলের উঁচুতলার নেতাদের বিমানে করে যাওয়ার কথা ছিল দিল্লি। কিন্তু সেখানেও সমস্যা। সেই বিমানও বাতিল হয়েছে যা নিয়ে বেশ তরজা শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে।
উল্লেখ্য, ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা-সহ আরও নানান বকেয়া টাকার দাবীতে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে ১ অক্টোবর দিল্লি পৌঁছনোর ঘোষণা করা হয় ঘাসফুল শিবিরের তরফে। আগামী ২ ও ৩ অক্টোবর দিল্লিতে কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলন কর্মসূচি রয়েছে তাদের। এই কর্মসূচিতে তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়ক, সহ-সভাধিপতি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয় দল।
ট্রেনে দিল্লি যাত্রার কথা থাকলেও ট্রেন বাতিল হওয়ায় গতকাল, শনিবার ৫০টি বিশেষ ভলভো বাসে করেই দিল্লি যাত্রা করেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। ১২০ জন দলীয় নেতাদের আজ, রবিবার বিমানে যাওয়ার কথা ছিল দিল্লি। কিন্তু পৌনে সাতটার বিমান বাতিল করে দিয়েছে ভিস্তারা। বিমান সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে যে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণ বাতিল করা হয়েছে বিমান।তবে এর পিছনে অন্য গন্ধ পাচ্ছেন তৃণমূল নেতারা।
কী জানালেন কুণাল ঘোষ?
বিমান বাতিল হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, তাদের দিল্লি যাত্রা কোনওভাবেই আটকানো যাবে না। তিনি বলেন, “ট্রেন বাতিল করেও শান্তি হয়নি। ভারতীয় জনতা পার্টি তৃণমূল কংগ্রেসের দিল্লি অভিযানকে এতটাই ভয় পাচ্ছে যে এবার প্লেন বাতিল করাতে শুরু করেছে। একটা প্লেন বাতিল হয়েছে। যাতে প্রায় শতাধিক তৃণমূল নেতাদের যাওয়ার কথা ছিল। আচমকা এই বিমান বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু, নির্দিষ্ট দিনেই আমাদের কর্মসূচি হবে”।
এর পাল্টা খোঁচা দিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের মালিকেরা তাজ কোম্পানির চাটার্ড ফ্লাইটে যাতায়াত করেন। তাঁরা হচ্ছে ভারতবর্ষের তৃতীয় ধনী রাজনৈতিক দল। এই মুহূর্তে অন্তত আটশো কোটি টাকা তাঁদের পার্টি ফান্ডে জমা হয়ে আছে। তাই চাটার্ড প্লেনে কেন কর্মীদেন নিয়ে যাবে না? আমার তো মনে হয় ২০টা চাটার্ড প্লেন ভাড়া করে যাতায়াত আরও সুবিধা হতো। বড় বড় প্রাইভেট জেট ভাড়া করলে একসঙ্গে আড়াইশো তিনশো জন চলে যেত”।





