গত রবিবারই পুর নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে রাজ্যের পুর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও কামারহাটি বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বাড়িতে তল্লাশি চালায় সিবিআই। এদিন সিবিআই তল্লাশি করে বেরোনোর পর মদন মিত্রকে বেশ ‘কুল’ অবতারে দেখা গেলেও, রণমূর্তি ধারণ করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম।
ঠিক কী বললেন ফিরহাদ?
সিবিআইয়ের তল্লাশি প্রসঙ্গ টেনেই গতকাল, সোমবার ধর্না মঞ্চ থেকে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “ ব্রাত্যর আগে একজন (পার্থ চট্টোপাধ্যায়) ভুল করেছে। অভিষেক, আমরা বসে ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। যদি আমার বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতি প্রমাণিত হয় তাহলে আমাকেও (অভিষেক) তাড়িয়ে দেবে। এসবে আমাদের দলে জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে”।
তাঁর বক্তব্য, “আমাদের মধ্যে একজন দুজন অন্যায় করেছে, পাপ করেছে। আইনি পথেই তার বিচার হবে। চাঁদে কলঙ্ক থাকতে পারে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও দাগ নেই। কোনও কলঙ্ক থাকতে পারে না”।
এরপরই বলি সিনেমা ‘স্পেশাল ২৬’র প্রসঙ্গ টেনে ফিরহাদকে বলতে শোনা যায়, “কয়েকদিন ধরে একটা অদ্ভুত জিনিস বাংলায় শুরু হয়েছে। অক্ষয় কুমারের রেইড সিনেমা নয়, সারা বাংলা জুড়ে শুধু রেইড আর রেইড। কখনও ইডির রেইড, কখনও সিবিআইয়ের রেইড। আসলে ওদেরকে এই জায়গায় এনেছে অভিষেকের এই আন্দোলন। ওরা শুধু মন্ত্রিসভার বৈঠক করছে আর বলছে আমরা তো ফেঁসে গেছি। শুভেন্দু তো আমাদের ফাঁসিয়ে দিয়েছে। মোদী সরকার থরথর করে কাঁপছে”।
তৃণমূল-বিজেপি আঁতাত নিয়ে সরব ফিরহাদ
বাম-কংগ্রেস বারবারই তৃণমূল ও বিজেপির আঁতাত নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এদিন ধর্না মঞ্চ থেকে সেই নিয়েও ফিরহাদ বলেন, “ছেলেটা (অভিষেক) দিন রাত এখানে বসে আছে, বাড়ি যাচ্ছে না, এটা সেটিং? ছেলেটা দিল্লিতে পুলিশের লাঠি খাচ্ছে। এটা সেটিং? সেটিং তো হাইকোর্টে হচ্ছে। সিপিএমের কেউ কেউ কোর্টে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট কোর্টে যাচ্ছে। আর সেখানে বলে দিচ্ছে সিবিআই তদন্ত কর, ইডির তদন্ত কর”।
প্রসঙ্গত, ফিরহাদ-সহ তৃণমূল বারবার অভিযোগ করে এসেছে যে প্রতিহিংসা থেকেই শুধুমাত্র তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের বাড়ি হানা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত কুন্তল ঘোষের থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠেছে এই মামলায়। সেই প্রসঙ্গে ফিরহাদের যুক্তি, “কেউ যদি জেলে থেকে নরেন্দ্র মোদীর নাম করে, তাহলে কী তাঁর বাড়িও যাবে সিবিআই”?






