‘রাগের মাথায় কোপ বসিয়ে দিয়েছি’, বাবাকে কুপিয়ে খু’ন করার পর অকপট স্বীকারোক্তি ছেলের

ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবাকে কোপাল ছেলে। নিজের এই কৃতকর্মের কথা আবার নিজে স্বীকারও করল সে। তার কথায়, সে নাকি রাগের মাথায় বাবাকে কোপ বসিয়ে দিয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।   

কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?

এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার দেনো গ্রামে। মৃতের নাম বাসুদেব পাত্র ও অভিযুক্ত ছেলের নাম বিশ্বজিৎ পাত্র। জানা গিয়েছে, বাসুদেব চাষবাস, গরু দেখাশোনা করতেন। তাঁকে কাজে সাহায্য করত তাঁর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে খবর, গতকাল, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাবা ও ছেলে দু’জনেই বাড়ি থেকে সামান্য দূরে গোয়ালে যায়। সেখানেই এই ঘটনা ঘটায় ছেলে।

জানা গিয়েছে, বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর নিজের এই কুকীর্তির কথা নিজেই শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে জানায় সে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন একথা শুনে চমকে ওঠেন। তারা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে সবটা জানান। পরিবারের লোকজন খুঁজতে গিয়ে দেখেন যে বাসুদেব গোয়ালঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন।

তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে। আজ, শুক্রবার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অভিযুক্ত ছেলে বিশ্বজিৎ পাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ, শুক্রবারই তাকে বর্ধমান আদালতে তোলা হয়।

মৃতের পরিবারের দাবী, অভিযুক্ত নাকি কয়েকদিন ধরেই অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিল। অভিযুক্তের কাকা বলেন, “ক’দিন ধরেই একটু এদিক ওদিক কথা বলছিল ভাইপো। বাবা ছেলে গোয়াল ঘরের কাজে গিয়েছিল। সেখানেই এসব হয়। এরপর শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে বলেছে বাবাকে খুন করেছে। সেখান থেকে আবার আমাকে ফোন করেছে”।

এক প্রতিবেশীর কথায়, “শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে বলছে, বাবাকে মেরে দিয়েছি। গিয়ে দেখি গরুর সামনেই পড়ে আছে। গ্রামের লোকেরা পুলিশকে ফোন করে। প্রথমে লুকিয়ে ছিল ছেলে। আজ সকালে ধরেছে। ছেলেটার মাথার ঠিক নেই। পাশেই আমাদের ঘর। অশান্তি থাকলে তো শুনতাম। শ্বশুর, বউ, নাতি নাতনি থাকে”।

অন্যদিকে, বাবাকে কোপানোর কথা যদিও স্বীকার করেছে অভিজুজক্ত ছেলে। তবে তার দাবী, “আমি মারিনি। বাপ ব্যাটার ঝামেলায় রাগে কোপ বসিয়ে দিয়েছি”।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles