বারো বছর আগে ছিলই না বর্ধমানের কার্জন গেট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নাকি সেই ঐতিহ্যবাহী কার্জন গেট বানিয়েছেন। শুধু কী তাই? বর্ধমানের ঝাঁ চকচকে রাস্তা, হাসপাতাল, আলো, এসবই হয়েছে মমতার আমলেই। এমনই দাবী তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষের। তাঁর এহেন মন্তব্যে শুরু জোর বিতর্ক।
ঠিক কী বলেছেন সায়নী?
গতকাল, বুধবার বর্ধমানের শতাব্দী প্রাচীন কার্জন গেটের সামনে একটি সভা ছিল তৃণমূলের। সেই সভায় যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল যুব নেত্রী সায়নী ঘোষ। সেই সভা থেকেই তিনি বলেন, “মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝান ১২ বছর আগে ছিল এই গেট? চকচকে রাস্তা, আলো, এত হাসপাতাল? কিছুই ছিল না”।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
সায়নীর এহেন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিতর্ক তৈরি হতে সময় লাগেনি বেশি। বিরোধীরা নানান মন্তব্য করেছেন এই ঘটনা নিয়ে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেছেন, “সায়নী ঘোষ বোকা বানাচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। কার্জন গেট যখন তৈরি হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম হয়নি। আর উনি বলছেন মুখ্যমন্ত্রী নাকি এই গেট বানিয়েছেন”।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা দীপঙ্কর দে ব্যঙ্গ করে বলেন, “এত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের সঙ্গে সঙ্গীতজ্ঞ, ভাল নাচেন, ছবি আঁকেন ইত্যাদি ছিল। আজ ওনার নামের সঙ্গে নতুন সংযোজন হল উনি কার্জন গেটের প্রতিষ্ঠাতা”।
তবে তৃণমূলের আবার দাবী, সায়নী সংস্কারের কথাই বলতে চেয়েছেন। বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদক বলেছেন, “গেট ছিলই। অস্বীকার করার উপায় নেই। এই সরকার আসার পর তিন চারবার সংস্কার হয়েছে। এই কথাই বলতে চেয়েছেন আমাদের নেত্রী সায়নী”।
উল্লেখ্য, ১৯০৩ সালে বিজয় চাঁদ মহাতাবের রাজ্যাভিষেক উপলক্ষ্যে বর্ধমানের মহারাজা জিটি রোড ও বিসি রোডের সংযোগস্থলে এই বিশাল তোরণটি তৈরি শুরু হয়। ১৯০৪ সালে ইংরেজ আমলে লর্ড কার্জনের শাসনের সময় তাঁর নামানুসারে এই গেটের নাম হয় কার্জন গেট। স্বাধীনতার পরবর্তীতে এর নামকরণ করা হয়েছিল ‘বিজয় তোরণ’। ১৯০৪-র ৪ঠা এপ্রিল এই গেট উদ্বোধন করেন ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় ও বড়লাট মার্কুইস জর্জ ন্যাথানিয়ল কার্জন। এরপর এই তোরণের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘স্টার গেট অফ ইন্ডিয়া’।





