‘অনুব্রত ঠিক বেরোবেই, ওঁকে ভুললে চলবে না’, দুর্নীতির অভিযোগে জেলবন্দি থাকলেও কেষ্টতেই ভরসা মমতার

প্রায় দেড় বছর ধরে জেলবন্দি তিনি। যখন সকলে প্রায় ভাবতেই বসেছেন যে বীরভূমের রাজনীতিতে ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছেন তিনি, সেই সময়ই ফের তাঁকে প্রাসঙ্গিক করে তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো। জেলবন্দি থাকলেও তাঁকে নিয়ে বৈঠকে কথা বলতে ভুললেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠারে ঠারে ঠিক বুঝিয়ে দিলেন আজও অনুব্রত মণ্ডলের জায়গাটা দলে ঠিক তেমনই রয়েছে।

কী বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

গতকাল, মঙ্গলবার কালীঘাটে বীরভূমের সংগঠন নিয়ে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দলের সাংসদ-সহ উপস্থিত ছিলেন জেলার অন্যান্য নেতারাও। এই বৈঠকেই মমতা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে অনুব্রত জেলবন্দি থাকলেও দলে তাঁর জায়গা তাঁরই রয়েছে।

এদিন বৈঠক শেষে সাংসদ শতাব্দী রায় জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছেন যে অনুব্রতকে কোনওভাবেই ভুললে চলবে না। তাঁর জেলমুক্তি নিয়ে আশাবাদী দলনেত্রী। তাঁর দাবী, অনুব্রত শীঘ্রই জেল থেকে বেরিয়ে আসবেন। আর জেল থেকে বেরোলে তাঁকে যোগ্য সম্মান দিতে হবে, এমনটাই বলেছেন মমতা, দাবী শতাব্দী রায়ের।   

শতাব্দী রায়ের দাবী, দলের সুপ্রিমো বার্তা দিয়েছেন যে অনুব্রত মণ্ডল ফিরলে তাঁকে তাঁর জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বীরভূমের জেলা সভাপতি ছিলেন অনুব্রত। তাঁর অঙ্গুলিহেলন ছাড়া সেখানে সংগঠনের কোনও কাজ হত না। এদিন বীরভূমে নতুন কোর কমিটি গঠন করেছেন মমতা। তাতেও জায়গা দেওয়া হয়েছে অনুব্রত ঘনিষ্ঠদের, এমনটাই খবর। সেই কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন কাজল শেখ যিনি অনুব্রত-বিরোধী বলেই পরিচিত।

প্রসঙ্গত, গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার হন অনুব্রত মণ্ডল। বর্তমানে তিহাড় জেলে রয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটেও নাম রয়েছে তাঁর। তবে বারবার অনুব্রতকে সমর্থন করতে দেখা গিয়েছে মমতাকে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, “অনুব্রত জেল থেকে বেরোলে তাঁকে বীরের সম্মান দেওয়া হবে”। আর এবার বৈঠকেও সেই একই বার্তা দিলেন মমতা।

আরও অন্যান্য খবর