‘বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদল প্রচার করতে দেয়নি, পুরভোটে কী হবে জানিনা, তবে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ভুল করিনি’, বিস্ফোরক অঞ্জনা বসু

আপাতত ছোটো ও বড় পর্দা মিলিয়ে তাঁর হাতে অনেক কাজ। সম্প্রতিই শেষ করেছেন দেব-রুক্মিণী মৈত্র অভিনীত ‘কিশমিশ’ ছবির কাজ। অনীক দত্তের একটি ছবিতেও কাজ করছেন। তবে আপাতত ফের তিনি মন দিয়েছেন টেলিভিশনে, যেখান থেকে তাঁর যাত্রা শুরু আর কি।

জি বাংলায় আসছে নতুন ধারাবাহিক ‘পিলু’। এই ধারাবাহিকের হাত ধরেই প্রায় আড়াই বছর পর জি বাংলায় ফিরছেন অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। এই চ্যানেল দিয়েই তিনি প্রথম কায শুরু করেছিলেন। বর্তমানে ভাইরাল জ্বরে কাবু অভিনেত্রী। তবে এরই মধ্যে ফোনে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার সেরে ফেললেন অঞ্জনা।

নতুন ধারাবাহিক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অঞ্জনা বলেন, “এই ধারাবাহিকে আমার বাবা সঙ্গীত দুনিয়ার দিকপাল ব্যক্তিত্ব। তাঁর মেয়ে আমি। অতীতে গানের দুনিয়ায় আমারও অনায়াস গতিবিধি ছিল। বিয়ের পরে বিশেষ কারণে গান ছেড়েছি। বাবার প্রিয় ছাত্র অভিনেতা কৌশিক চক্রবর্তী আমার স্বামী। তিনিই বাবার অবর্তমানে তাঁর সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানের প্রধান। আসলে আমিই সব। প্রতিষ্ঠান থেকে সংসার, সবেতে আমিই শেষ কথা। চরিত্রে হয়তো কিছুটা নেতিবাচক দিক থাকবে। তবে সেটাও আভিজাত্যের মোড়কে। তবে গান কেন ছাড়লাম, সেটা বড় রহস্য। ওটা আপাতত রহস্যই থাক”।

প্রায় আড়াই বছর অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন অঞ্জনা বসু। এই সময় রাজনীতি, সমাজসেবা নিয়েই ছিলেন তিনি। এতদিন পর ফের অভিনয়ে ফিরে কোনও রকমের কোনও বিভেদের মুখে কী পড়েছেন তিনি? তাঁর কথায়, “বিভেদের থেকেও আরও ভয়ানক অনুভূতি গ্রাস করেছে ইন্ডাস্ট্রিকে। কাজে নিরাপত্তার অভাব। শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকলেই কাজ থাকবে, সেই নিশ্চিন্ততাও আর নেই। এটা কিন্তু আগে ছিল না। সবাই সারাক্ষণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শিল্পীদের থেকেও এই ভয় বেশি কলাকুশলীদের। কিন্তু কী কারণে? সত্যিই জানি না। তবে দেখে খুবই খারাপ লেগেছে। এই ভয়ের কাছে কিন্তু ‘ওরা-আমরা’র বিভেদ তুচ্ছ। আর বিভেদটাও বোধহয় এখন আর নেই”।

একুশের নির্বাচনে অনেক তারকাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবির পর এক এক করে দল ছাড়ার হিড়িক পড়েছে। অঞ্জনা বসু নিজেও গেরুয়া দলের সদস্য। এই বিষয়ে অভিনেত্রী বলেন, “যাঁরা বিজেপিতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে যোগ দিয়েছিলেন তাঁদের মাথায় সম্ভবত কিছু ভাবনা ছিল। সেই সময় দল রাজ্যে আসছে তেমন কথা শোনা গিয়েছিল। ফলাফল উল্টো হওয়ায় তাঁদের হয়তো স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। তাই তাঁরা দলে নেই। আমি বিজেপি-তে যখন যোগ দিয়েছিলাম তখন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায় কেউই আসেননি। সেই সময় রাজ্যে দলের আসন সংখ্যা মাত্র ২টি। এখন ৭০টি। আমি দল ছাড়ব কেন”?

সামনেই পুরভোট, তবে অসুস্থতার কারণে তিনি প্রচারে বেরোতে পারছেন না। এই নির্বাচনে বিজেপি অবস্থা জানিয়ে অঞ্জনা বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনের সময় আমাকেই শাসকদল প্রচার করতে দেয়নি। দাবিয়ে, দমিয়ে রেখেছে। পুরভোটে কতটা স্বাধীনতা পাব, কী করে বলি? কেন্দ্রীয় বাহিনী এনেও যে ভাবে ভোটে কারচুপি হয়েছে সেটাই এ বারেও হবে। ফলে, ফলাফল কী হবে, রাজ্যের মানুষ আগাম বুঝে গিয়েছেন”।

RELATED Articles