ফেসবুক, ট্যুইটারে ইরফানের শেষ পোস্টেও থেকে যাওয়ার আর্তি

তিনি যে চলে গিয়েছেন এটাই এখনও কেউ মানতে নারাজ। এই হঠাৎ এসে তিনি বলবেন, দেখলে কেমন চমকে দিলাম! কিন্তু বাস্তব যে বড়ই নির্মম। তাঁর শেষ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেও থেকে যাওয়ার জন্য আর্তি জমে উঠেছে।

‘আমি সত্যিই যেতে চাইনি। বিশ্বাস করো একটা দমকা হাওয়ার ঝটকায় গাড়ির চাকা গড়াতে শুরু করল। আর আমি স্টিয়ারিং ঘোরাতে শুরু করলাম…’। চার চাকার সওয়ারিতে সওয়ার ইরফান। একাই। দিগন্ত চেরা রাস্তা আর দুদিকে সবুজ নেমে এসেছে। ইরফান যাচ্ছেন। হঠাৎ থেমে গাড়ির ইউ টার্ন। সংলাপে ইরফান খান সাবলীল ভাবে বলে চলেছেন, ‘মে আপনি বাপ কি কসম খাকে কেহেতা হু. কে মে জানা নেহি চাতা থা।’

তবুও যেতে হল।

২০২০-র ২৯শে এপ্রিল জীবনের রাস্তা থেকে গাড়ির ইউ টার্ন নিলেন ইরফান খান। মা সঈদা বেগম গত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মায়ের কাছে চলে গেলেন অভিনেতা, রেখে গেলেন এক আকাশ সিনেমা।

রূপোলি পর্দায় প্রথম আত্মপ্রকাশ ‘সালাম বম্বে’ ছবিতে। মীরা নায়ারের পরিচালনায় ১৯৮৮ সালে সেই প্রথম বলিউড চিনেছিল জয়পুরের নবাগতকে। তারপর দীর্ঘ ৩২ বছর কোথাও থামেননি ইরফান। অবশেষে থামলেন ‘আংরেজি মিডিয়াম’-এ এসে। হোমি আদাজানিয়ার পরিচালিত এই ছবিটাই হয়ে থাকল তাঁর শেষ ছবি। জীবনের শেষ ট্যুইটে ‘পদ্মশ্রী’ ইরফান খান বলে গেলেন, তিনি অন্তর থেকে আবেগপ্রবণ, বাইরে থেকে ভীষণ খুশি…। ১২ই এপ্রিল, বেলা ৩টে বেজে ৪৪ মিনিটে ‘আংরেজি মিডিয়াম’ নিয়ে এই পোস্টটি করেছিলেন ইরফান। এই একই পোস্ট তিনি শেয়ার করেছিলেন তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও। এই ছবিতে চম্পক নামের একটি চরিত্রে ইরফান খানকে অভিনয় করতে দেখা যায়। যিনি তার মেয়ের লন্ডনে গিয়ে পড়াশুনার স্বপ্নপূরণ করেন। ইরফান তাঁর শেষ পোস্টটি করেছেন সেই চরিত্র নিয়েই। যেখানে তিনি একই সঙ্গে লিখে গেলেন, “অন্তরের প্রেম বাহিরেও প্রকাশিত হয়।”

কোলনে সংক্রমণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন ইরফান। চিকিৎসা চলছিল লন্ডনের একটি হাসপাতালে। গতকাল শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে অভিনেতাকে ভর্তি করা হয় মুম্বইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে। ২৪ ঘণ্টাও কাটল না, তিনি পাড়ি দিলেন চিরঘুমের দেশে।

RELATED Articles

Leave a Comment