মহানগরীর বুকে জমে রয়েছে অনেক পুরনো স্মৃতি। নতুনত্বের মাঝেই রয়েছে পুরনো দিনের সেই বাড়িঘর, অলিগলি, হাতে টানা রিকশা ও আরও অনেক কিছু। এই এতকিছুর মধ্যেই সবচেয়ে প্রাচীন বৃহত্তম বইপাড়াও রয়েছে কলকাতাতেই। কলকাতার কলেজস্ট্রিট। যেই চত্বরের চারপাশ ঘিরে রয়েছে কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়। রয়েছে পুরনোকে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সেই ‘কফি হাউজ’। আর তার পাশেই রয়েছে ‘মহল’। যার সঙ্গে স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের।
যদি রমানাথ মজুমদার স্ট্রীটে ঢুঁ মারা যায়, তবে দেখা মিলবে এই মহলের। দূর দূর থেকে বহু মানুষ এই বইপাড়ায় আসে বইয়ের খোঁজে। একদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের বই কেনার ভিড় পরে এই বইপাড়ায়, অন্যদিকে বইপ্রেমীদের ভীড় জমে এই বই পাড়াতেই। আর এই বই কেনার ভিড়ে কলেজ স্ট্রিটের একফালি গলির মধ্যে দাঁড়িয়ে ‘মহল’। যেখানে সারা দিনের সমস্ত ক্লান্তি দূর করতে ভিড় জমে বাঙালির। পাওয়া যায় বাহারি স্বাদের খাবার।
ক্লাস, আড্ডা, বই দেখা, বই কেনা, খাওয়া-দাওয়া সব মিলিয়ে কলেজস্ট্রিট সেজে ওঠে। আর যেখানে ‘মহল’ রয়েছে সেখানে বাহারি খাবার খেতে আর কিসের অসুবিধা! কিন্তু এই রেস্তোরাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক কিংবদন্তি বাঙালির নাম। ব্যোমকেশ বক্সী থেকে জীবনানন্দ দাশ সকলেই উপস্থিত। কি ভাবছেন কত পুরনো এই ‘মহল’? তবে ইতিহাস বলছে, আজ ‘মহল’ রেস্তোরাঁ হলেও, সেখানে ছিল বিখ্যাত ‘প্রেসিডেন্সি বোডিং’। আজও বাড়ির দেওয়ালে জ্বলজ্বল করছে ‘প্রেসিডেন্সি বোর্ডিং’-এর হোডিং।
যেই বাড়িতেই একসময় থেকেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বাড়িতেই বসে সব রহস্যের সমাধান করেছেন। ব্যোমকেশ বক্সীর বইতে উল্লেখ রয়েছে এই বাড়ির। এমনকি দীর্ঘদিন এই বাড়িতে ছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশ। সৃষ্টি করেছেন একের পর এক কবিতা। আজও বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে শুনতে পাওয়া যায় শিল্পীর কলম খসখসের শব্দ। এই বাড়ি পুরনো দিনের সাহিত্যের কথা জানান দেবে।
কলেজস্ট্রিটের এই হোটেলে রয়েছে পুরনো দিনের গল্প। আজ যেই চত্বরে রান্নাবান্না হয় সেখানে প্রেসিডেন্সি বোর্ডিংয়ের রান্নাঘর ছিল। এখনকার কর্ণধার সন্দীপ দত্তের ঠাকুরদা হাজার ১৯১৭ সালে তৈরি করেছিলেন এই প্রেসিডেন্সি বোর্ডিং। এই দোকান এখন বাংলাদেশও বেশ পরিচিত। ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় প্রচুর মানুষ এসে থাকেন। যারা এসে কলকাতার বইপাড়ার এই ‘মহল’-এ ঢুঁ মারবেনই। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। আবার কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে ৮টা থেকে সাড়ে ন’টা অবধি খোলা হয়। সেকালের ‘প্রেসিডেন্সি বোর্ডিং’ আর আজকের ‘মহল’ হোটেলে কি পাওয়া যায়?
সবই রয়েছে। ঠিকানা ৬/৩ রমানাথ মজুমদার স্ট্রীট কলকাতা ৭০০০০৯। ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট হলের ঠিক পেছনে রয়েছে এই ‘মহল’। এখনও পুরনো কলকাতায় মজে থাকা বাঙালিকে নেশার মতো ঘিরে রয়েছে এই ‘মহল’। যেমন এখানকার খাবারের স্বাদ তেমনি গন্ধ। যার দেওয়ালে দেওয়ালে রয়েছে কিংবদন্তি বাঙ্গালীদের স্মৃতিচিহ্ন।





