‘ধ’র্ষ’ণে’র মতো ঘৃণ্য অপরাধের প্রতিবাদ করাটা দোষের? কীসের এত ভয়’? কোনও সরকারি হলে ছবি মুক্তি না পাওয়া নিয়ে বিস্ফোরক পরিচালক

আজই ছবি মুক্তির দিন। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে সংশয়ে ভুগছেন ছবির পরিচালক থেকে শুরু করে কলাকুশলীরা। ছবির মাধ্যমে ধ’র্ষ’ণে’র মতো এক ঘৃণ্য অপরাধের প্রতিবাদ করা হয়েছে বলেই কী এমনটা হল? প্রশ্ন তুলেছেন ‘দ্য রেড ফাইলস’ (The Red Files) ছবির পরিচালক কিংশুক দে।

ধ’র্ষ’ণে’র মতো ঘটনা আমাদের দেশে আকছার ঘটেই চলেছে। কোনও ঘটনা ফাইলবন্দি হয়, তো আবার কোনও ঘটনা থেকে যায় সকলের আড়ালেই। সেই সমস্ত ঘটনা ছবির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন পরিচালক কিংশুক দেন। তাঁর নতুন ছবি ‘দ্য রেড ফাইলস’ (The Red Files)-এর বিষয়বস্তু সেটাই। কিন্তু কলকাতায় এই ছবি জায়গা পেয়েছে মাত্র ২টি হলে। ধ’র্ষ’ণে’র মতো ঘটনার সত্যি তুলে ধরা হয়েছে বলেই কী তাঁর ছবি জায়গা পেল না শহরের প্রেক্ষাগৃহে?   

কী জানালেন পরিচালক?

পরিচালক কিংশুক দে-র কথায়, “আগে মুক্তি পাওয়া অনেক ছবিই শহরে চলছে, আর আমার নতুন ছবি একটা সরকারি হলও পেল না। শহর কলকাতায় মাত্র ২টো হল পেয়েছি, সেগুলো হাউজ়ফুলের দিকে। অর্থাৎ মানুষ ছবিটা(The Red Files) দেখার জন্য আগাম বুকিং করছেন, ছবিটা দেখতে চাইছেন। আমি তো কোনও রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করিনি। যেমন ১৯৯০ সাল দেখিয়েছি, তেমন ২০২২ সালও দেখিয়েছি। আমার একটাই উদ্দেশ্য ছিল, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের প্রতিবাদ করা”।

ছবির বিষয়বস্তুই কী হল না পাওয়ার কারণ?

পরিচালকের কথায়, “ধ’র্ষ’ণ নিয়ে ছবি তো বলিউডেও হয়েছে। সেখানে তো প্রেক্ষাগৃহ পাওয়া নিয়ে এমন সমস্যার কথা শুনিনি। আসলে বাঙালি কাঁকড়ার জাত, এখানে ইন্ডাস্ট্রিতে কার পিছনে কী চলছে বোঝাই যায় না। এর মধ্যে কোন রাজনীতি রয়েছে কি না তাও আমি সত্যিই জানি না। কেবল জানি, আমার ছবিকে সেন্সর বোর্ড আনকাট ইউ/এ সার্টিফিকেট দিয়েছে। তাহলে নিশ্চয় তাঁদের মনে হয়েছে এটা একটি শিক্ষামূলক ছবি, প্রতিবাদের ছবি (The Red Files)”।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এত এগিয়ে গিয়েছি প্রযুক্তির দিক দিয়ে অথচ আমাদের মা-বোনেদেরই এখনও সুরক্ষা দিতে পারি না। শুধু রাস্তায় নয়, পরিবারের মধ্যেও অনেকেই হেনস্থার শিকার হন। সেই সত্যি কথাটা আমি বলেছি বলেই কী এত ভয়? আমি সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার তৈরি ছবি দেখুন, দেখে বিচার করুণ আদৌ আমি কোনও অপপ্রচার করেছি কী না”?

কী দেখানো হয়েছে ‘দ্য রেড ফাইলস’ (The Red Files)-এ?

কিংশুক দেন জানান, “ধ’র্ষ’ণে’র মতো ঘৃণ্য অপরাধের প্রতিবাদেই আমার এই ছবি। ধ’র্ষ’ণ যে অপরাধ তা আমরা জানি, কিন্তু কেন এই অপরাধে লিপ্ত হয় কোনও অপরাধী? ঠিক কী চলে তার মনের মধ্যে? আমরা ছোট থেকে যেভাবে আমাদের সন্তানদের বড় করি, সেভাবে তাদের অজান্তেই ইঁদুরদৌড়ের মধ্যে ঠেলে দিই… সেই বড় করার পদ্ধতিতেই কি কোনও খামতি থেকে যাচ্ছে? আমরাই কি আমাদের ছেলেমেয়েদের স্বার্থপর করে গড়ে তুলছি নিজেদের অজান্তেই? সত্যঘটনা অবলম্বনে তৈরি এই ছবি প্রশ্ন তুলবে এই সমস্ত সামাজিক স্পর্শকাতর বিষয়গুলি নিয়েই”।

আরও অন্যান্য খবর