দাদাগিরির মঞ্চে সৌরভ গাঙ্গুলী স্ত্রী ডোনরা গাঙ্গুলী ও মেয়ের সানা গাঙ্গুলীকে (Sana Ganguly) নিয়ে প্রায়শই কথা বলেন। সশরীরে হাজির না থাকলেও তারা থাকে না আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সানাকে নিয়ে দাদাগিরিতে খেলতে আসা প্রতিযোগীদের হাজারো প্রশ্ন থাকে। কখনো সানার বিয়ে,তার প্রেমিক সবকিছুই জানতে চান বাবা সৌরভের কাছে। ডোনার একমাত্র মেয়ে সানা এখন ২২ বছরের যুবতী। লন্ডনে থেকে পড়াশুনা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে সানার। এখন সেখানে চাকরিরত সে। সৌরভের লন্ডনের বাড়িতে এখন একাই থাকেন সানা। দেশের বাইরে মেয়ের একা থাকা নিয়ে সবসময় সচেতন থাকেন বাবা সৌরভ। এর আগে দাদাগিরির মঞ্চে সৌরভ কে বলতে শোনা গেছে, ‘সানা বাবাকে এক পকেটে রাখে, মাকে অন্য পকেটে’।
২০০১ সালের ৩রা নভেম্বর জন্ম হয়েছে সানার। এখন তাঁর বয়স ২৩। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন। এখন সেখানকার এক নামী কোম্পানিতে চাকরিরতা সানা। লন্ডনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সংস্থাতে চাকরি পেয়েছেন তিনি। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই মোটা মাইনের চাকরি করে সানা (Sana Ganguly)। তবে উপার্জন করলেও টাকা জমাতে শেখেনি সানা, সেই কথা আর দাদার মুখে এসোনা গেছে দাদাগিরির মঞ্চে। সানার বাবা নামী ক্রিকেটার, মা খ্যাতনামা নৃত্যশিল্পী। তবে এসবের বাইরে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন সানা গঙ্গোপাধ্যায়। লোকে তাঁকে নিজের নামেই চিনুক, সেটাই চেয়েছেন সানা।
এবার মুখ খুললেন ডোনা গাঙ্গুলী। বাবা হিসেবে সৌরভ কেমন সেই প্রশ্নের উত্তরে ডোনা জানান, “মেয়েকে (Sana Ganguly) নিয়ে বেশ চিন্তায় থাকেন মহারাজ। যত বয়স বাড়ছে, মহারাজ যেন মেয়ের সঙ্গে আরও বেশি করে জড়িয়ে পড়ছে। সানার ছোটবেলায় অনেক বেশি ব্যস্ত ছিল মহারাজ, ক্রিকেট নিয়েও অনেক ভাবত। এখন হয়তো ভাবে আর কদিনই বা সানা থাকবে, বিয়ে হয়ে যাবে..।” তবে মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ডোনা গাঙ্গুলীর। মেয়ের কাউকে পছন্দ হলেই মাকে জানাতে মোটেই দেরি করেন না সানা। ডোনা জানিয়েছেন, “সানা যদি প্রেম করে, তাতে আমার আপত্তি থাকবে না। তবে আমি কখনও ওকে বিয়ের জন্য জোর করব না। নিজে থেকে ওর জন্য পাত্র পছন্দ করে আনব না। সানাকেই বলব জীবনসঙ্গী খুঁজতে।”
এখনকার জেনারেশনের মধ্যে সম্পর্ক ভাঙার প্রবণতা বেশি। তাই ডোনা চান, জীবনসঙ্গীকে জেনেবুঝে ভবিষ্যতের কথা ভাবুক সানা (Sana Ganguly)। ডোনার কথায়, “সানা যদি বিয়ে না করার সিদ্ধান্তও নেয় তাহলেও তিনি সঙ্গে আছেন। তবে মা হিসাবে কোনওদিন চাইবেন না ডিভোর্সের মতো তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হোক। মেয়ে যে কেরিয়ারমুখী তা অজানা নয়।” নেওয়ার মেয়ের সিদ্ধান্তে পাশে থাকবেন তিনি তা ডোনার কথায় স্পষ্ট। ডোনা জানিয়েছেন, মেয়ের লন্ডনে চাকরি করা নিয়ে সৌরভ মেয়ের কাছে আবদার করে দেশে ফিরে আসতে বলেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়েকে লোকে অফিসে অন্য চোখে দেখে, এমন অভিজ্ঞতাও হয়েছে সানার। সানাকে শুনতে হয়েছে, “তুমি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে, তোমার চাকরির কী দরকার?”






