ব্রিগেড ময়দানে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকাল থেকেই ছিল বাড়তি উৎসাহ। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের এই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ। তবে সবার নজর কেড়ে নেন টলিউড সুপারস্টার জিৎ (Jeet)। সাদা পাঞ্জাবি এবং রোদচশমায় তাঁকে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতে দেখা যায়। নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মধ্যেও অভিনেতাকে দেখে অনেকেই চমকে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর উপস্থিতি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে অনুষ্ঠানস্থলের একাধিক ছবি ও ভিডিও। রাজনৈতিক মঞ্চে জিৎকে দেখা যাওয়ায় কৌতূহল আরও বেড়ে যায়।
নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে আগেই তৈরি হয়েছিল বিশেষ আগ্রহ। তার মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari)-র নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্তে জিৎ-এর উপস্থিতি অনেকের নজরে আসে। কয়েকদিন আগেই বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছিলেন অভিনেতা। তাই তাঁর এই উপস্থিতিকে ঘিরে নতুন করে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে টলিউডের আরও কয়েকজন পরিচিত মুখকে দেখা গেলেও জিৎকে নিয়েই বেশি আলোচনা হয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে শিল্পীদের অবস্থান নিয়ে আবারও চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, টলিউডের একাংশ ধীরে ধীরে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি।
দীর্ঘদিন ধরেই টলিউডে জিৎকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকা একজন অভিনেতা হিসেবেই দেখা হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন সংগঠন বা রাজনৈতিক বিতর্কে তাঁকে খুব একটা সক্রিয় হতে দেখা যায় না। ফেডারেশনের বৈঠক কিংবা প্রকাশ্য মতবিরোধ থেকেও সাধারণত দূরেই থেকেছেন তিনি। অন্য অনেক তারকার মতো রাজনৈতিক বক্তব্যও খুব কমই দিয়েছেন। সেই কারণেই ব্রিগেডের অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি ভবিষ্যতের বড় কোনো ইঙ্গিত, তা সময়ই বলবে। যদিও অভিনেতার তরফে এখনো পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে জল্পনা আরও বাড়ছে টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলে।
বাংলার রাজনীতিতে তারকাদের অংশগ্রহণ নতুন কোনো ঘটনা নয়। আগে থেকেই একাধিক অভিনেতা এবং অভিনেত্রী সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তালিকায় রয়েছে দেব, সোহম, রকেট এবং রূপা গাঙ্গুলির মতো নাম। কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, আবার কেউ দলীয় প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে জিৎ-এর উপস্থিতিকে অনেকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁর এই উপস্থিতি ভবিষ্যতে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত কিনা তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। যদিও এখনো পর্যন্ত সবটাই জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় কৌতূহল থেকেই যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ব্রিগেডের মঞ্চে ৯৭ বছরের বৃদ্ধের পা ছুঁয়ে প্রণাম মোদীর! কে এই মাখন লাল সরকার, যার সঙ্গে জড়িয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আন্দোলনের ইতিহাস? ফাঁস হলো বিজেপির আদি লড়াইয়ের অজানা অধ্যায়!
শপথ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর থেকেই এই ঘটনা নিয়ে টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলে চর্চা আরও বেড়েছে। অনুষ্ঠান শেষে জিৎকে দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নেরও তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবু তাঁর উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরেও চলছে আলোচনা। কেউ মনে করছেন এটি নিছক সৌজন্য, আবার কারও মতে এর পেছনে থাকতে পারে বড় রাজনৈতিক বার্তা। তবে অভিনেতার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে ব্রিগেডের এই শপথ অনুষ্ঠান রাজনীতি ও টলিউডের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে।






