বেআইনি নির্মাণ মামলায় এবার আরও কড়া কলকাতা হাইকোর্ট। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে এবার অভিযুক্ত প্রোমোটারের জরিমানা দ্বিগুণ করলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। আগে তাঁকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এবার সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ২ লক্ষ করা হল।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দীবাগান এলাকায় নির্মাণ করতে চেয়ে পুরসভায় আবেদন জানিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু সেই অনুমতি মেলেনি। অনুমতি না পাওয়ার পরও কাজ থামান নি প্রোমোটার। নির্মাণ চালিয়ে যান।
উল্টে তিনি আইনের দ্বারস্থ হন যাতে ওই বেআইনি নির্মাণকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই মামলা আদালতে উঠলে বিচারপতি অমৃতা সিনহা তাতে স্বীকৃতি দেন নি। আর বেআইনি নির্মাণের কারণে গত ১২ মার্চ মামলাকারীকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করে হাইকোর্ট। এক সপ্তাহের মধ্যে সেই টাকা পুরসভাকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল প্রোমোটারকে।
আজ, বুধবার এই মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু কলকাতা পুরসভা জানায়, ওই নির্মাণকারী জরিমানার টাকা দেন নি। সেই সময় মামলাকারীর আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যাবেন। সেই কারণে এখনই জরিমানা দেওয়ার কথা ভাবছেন না তিনি।
একথা শুনে বেজায় চটে যান বিচারপতি সিনহা। তাঁর পর্যবেক্ষণ, “ওই ব্যক্তি নির্দেশ না মেনে অন্যায় করেছেন। যারা এসবের যুক্ত তাদের একটা ভাল শিক্ষা দিতে হবে, যাতে আগামিদিনে বেআইনি নির্মাণ বন্ধ হয়। আদালত চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে পারে না। বিচার না দিলে অন্যায় করা হবে”। এরপরই নির্মাণকারীর জরিমানার অঙ্ক দ্বিগুণ করে দেন বিচারপতি। আগামী ২২ মার্চের মধ্যে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সিনহা।
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে কলকাতায় বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় জলা জমি বুজিয়ে বহুতল তৈরি করার মামলায় কলকাতা পুরসভার কাছে রিপোর্ট তলব করেছিলেন তিনি।
সেই সময় বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, “কলকাতা নিশ্বাস নিতে পারছে না, আর আপনারা জলা জমি বুজিয়ে বিল্ডিং করছেন? জলা জমি ভরাট করে নির্মাণ তৈরি হচ্ছে আর যাদের দায়িত্ব সেটা বন্ধ করার, তাঁরা চোখ বুঝে আছেন”। এসবের মাঝেই দু’দিন আগে গার্ডেনরিচে বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। এই কারণে এবার বেআইনি নির্মাণ নিয়ে আরও কঠোর হলেন বিচারপতি।





