পদ্মশ্রী পাওয়ার পর স্বাধীনতা নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানওয়াত। কিছুদিন আগেই এক অনুষ্ঠানে এক বিতর্কিত মন্তব্য করায় বেশ বিপাকে পড়েন বলিউডের কন্ট্রোভার্সি কুইন। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জমা পড়ার পাশাপাশি, তাঁর পদ্মশ্রী সম্মান কেড়ে নেওয়ার দাবীও উঠে নানান মহলে।
উল্লেখ্য, পদ্মশ্রী পাওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা রানওয়াত দাবী করেন যে ভারতে আসল স্বাধীনতা এসেছে ২০১৪ সালে। ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা ভিক্ষার স্বাধীনতা। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসে বিজেপি সেই সময়কালকে ইঙ্গিত করেই এমন মন্তব্য করেছিলেন অভিনেত্রী যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়।
আজ, শনিবার ফেসবুকে নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে ফের নানান অভিযোগ তোলেন কঙ্গনা। এদিন ‘জাস্ট টু সেট দ্য রেকর্ড স্ট্রেট’ বই থেকে কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরেন অভিনেত্রী।
এদিন তিনি লেখেন, “এখানে খুব সুস্পষ্টভাবে বিষয়টা উপস্থাপনা করা হয়েছে, ১৮৫৭ সালে প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী সংঘবদ্ধ যুদ্ধ হয়েছিল… স্বাধীনতার স্বার্থে জীবন উত্সর্গ করেছেন সুভাষ চন্দ্র বসু, রানি লক্ষ্মীবাঈ, বীর সাভারকারজি। ১৮৫৭ সালের কথা তো আমি জানি, কিন্তু আমি জানি না ১৯৪৭ সালে কোন যুদ্ধ হয়েছিল, যদি কেউ সেই বিষয়টা আমার স্মরণে আনতে পারে আমি কৃতজ্ঞ থাকব। আমি আমার পদ্মশ্রীও ফিরিয়ে দেব সেটা জানাতে পারলে, ক্ষমাও চাইব… দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন”।
এদিন কঙ্গনা লেখেন যে তিনি নিজে রূপোলী পর্দাতে রানী লক্ষ্মীনবাঈ-এর আত্মত্যাগের কাহিনী ফুটিয়ে তুলেছেন। আর এই কারণে বেশ কিছু রিসার্চও করতে হয় তাঁকে। তাঁর দাবী, আচমকাই জাতীয়তাবাদ আন্দোলন থেমে গিয়েছিল আর এই কারণে তিনি কংগ্রেস ও গান্ধীকে দোষারোপ করেন।
অভিনেত্রীর কথায়, “কেন গান্ধীজি ভগত সিং-কে মরতে দিয়েছিল? কেন নেতা বোস (সুভাষচন্দ্র বসু)-কে হত্যা করা হয়েছিল, কেন তিনি কোনওদিন গান্ধীর সমর্থন পাননি? কেন একজন শ্বেতাঙ্গ ভারত-ভাগের মানচিত্র তৈরি করেছিল? কেন স্বাধীনতার আনন্দে মেতে না উঠে ভারতীয়রা একে অপরকে হত্যা করতে মেতে উঠেছিল? এই সব প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজছি, দয়া করে কেউ জবাব দিন”।
২০১৪ সালে প্রকৃত স্বাধীনতা পাওয়ার ব্যাখা দিয়ে চারবারের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীম কঙ্গনা রানওয়াত বলেন, “আমাদের কাছে কাগজে কলমে স্বাধীনতা ছিল, কিন্তু প্রকৃত জাগরণ ঘটেছে ২০১৪ সালে। একটা মৃতপ্রায় সভ্যতা নতুন করে জীবন পেয়েছে, আর সেটা এখন আকাশে ডানা মেলে উড়ছে… এখন ভারতীয়রা ইংরাজি না-জানা থাকবার জন্য তিরস্কৃত হন না, আমরা নিজেদের দেশের তৈরি জিনিস ব্যবহারে লজ্জা পাই না… সবটাই তো বলা হয়েছিল ওই সাক্ষাত্কারে, আসলে যাঁরা চোর তাঁদেরই এইসব গায়ে লাগে, সেটা নিয়ে কিছু করা যাবে না… জয় হিন্দ”।





