অশোক স্তম্ভের নতুন স্থাপত্য নিয়ে প্রথম থেকেই নানান বিতর্ক শুরু হয়েছে। নতুন এই স্থাপত্যে সিংহের হিংস্র চেহারা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে নানান স্তরে। বিজেপি বিরোধী নানান দল এই নিয়ে নানান কটাক্ষ করছে বিজেপিকে। এই বিতর্কের মধ্যেই এবার মুখ খুললেন অভিনেতা কৌশিক সেন। বললেন, “লোকসভা ভোট এগিয়ে আসতেই বিজেপির হিংস্র চেহারাও বেরিয়ে আসছে ওই সিংহের মতোই”।
এক সংবাদমাধ্যমের হয়ে কৌশিক সেন লিখলেন, “একটা সময় ছিল যখন বিজেপিরও একটা রাখঢাক ছিল। আজ নূপুর শর্মা হোক বা অনুপম খের, তাঁরা যে এ ভাবে দৃঢ় স্বর তুলতে পারছেন, তার কারণ একটাই। ২০২৪-এর লোকসভা ভোট যত এগিয়ে আসবে, বিজেপি এবং আরএসএসকে তাদের নগ্ন চেহারাটা যে বার করতেই হবে”।
তাঁর সংযোজন, “দেশে বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি সবই প্রায় রেকর্ড ছুঁয়েছে। দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারীর সংখ্যাও আরও বেড়েছে। এগুলো থেকে যদি মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে হয়, তবে দুটো জিনিসের প্রয়োজন । এক, হিংস্র চেহারাটাকে বার করা। এবং সেই চেহারার মধ্যে দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া জীবনের যাবতীয় অশান্তির মূল কারণ কারা। ওরা বোঝাতে চাইবে, সব কিছুই হচ্ছে ধর্মীয় ভেদাভেদের কারণে। কখনও কখনও সঙ্গে বিদেশি শক্তির ভয় দেখানো হবে। কখনও দেশের ভিতরে কিছু শত্রু তৈরি করা হবে। সেটা কখনও বুদ্ধিজীবীদের, কখনও শিল্পীদের”।
কৌশিক সেন আরও লেখেন, “বাঙালিদের মধ্যে একটা বড় অংশের মুসলিম বিদ্বেষ রয়েছে, যেটা বিধানসভা ভোটের সময়ে সে ভাবে বেরোয়নি। এটা তাতে ইন্ধন জোগাবে। তবে বিজেপি যেটা সফল ভাবে পেরেছে, সেটা হল উগ্র জাতীয়তাবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে। ৫৬ ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদীকে হিরো হিসেবে ভাবতেই ভাল লাগে তাঁদের। এই পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোই তাঁদের পক্ষে আদর্শ”।
এই বিষয় নিয়ে অনেক তারকা মুখ না খোলা নিয়েও তোপ দেগেছেন কৌশিক সেন। তাঁর কথায়, “আমাদের দেশে ক্রিকেটার এবং অভিনেতাদের জনপ্রিয়তা বিশাল। তাঁরা কিছু বললে মানুষ শুনবে। কিন্তু দেশের কোনও বিষয় নিয়ে তাঁরা কোনও কথা বলেন না। বলতে পারেন না। উদাহরণ হিসেবে আমরা দেখেছি শাহরুখ খানের অবস্থা। মাদক কাণ্ডে তাঁর ছেলেকে ফাঁসিয়ে পরিবারের সঙ্গে যা করা হল! আমিরও দু’এক বার বলতে গেলেন, তাঁকেও চুপ করিয়ে দেওয়া হল”। উল্লেখ্য, অশোক স্তম্ভ বিতর্ক নিয়ে কৌশিক সেনের মতো কিছু তারকা মুখ খুলেছেন। কেউ প্রত্যক্ষভাবে নিজের মতামত জানিয়েছেন, তো কেউ আবার পরোক্ষভাবে।





