অভিনেত্রী শ্রীদেবীকে (Sridevi) খুন (murder) করেছেন তার স্বামী বনি কাপুর (Boney Kapoor)! উদ্দেশ্য ছিল শ্রীদেবীর ২৪০ কোটি টাকা মূল্যের ইন্সুরেন্স পলিসি (Insurance policy) টাকা হাতিয়ে নেওয়া! সোশ্যাল মিডিয়ায় এবার একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে এরকমই বিস্ফোরক দাবি করলেন বিতর্কিত অভিনেতা কামাল আর খান। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে।
সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় দশ মিনিট ধরে গোটা ঘটনাটির ব্যাখ্যা করেছেন কামাল। সেখানেই তিনি বলছেন যে, ২০১৮ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি শ্রীদেবীর মৃত্যুটা অত্যন্ত রহস্যজনক। সেটি কেন তাও তিনি তথ্যসহকারে পেশ করেছেন দর্শকদের সামনে। সেই সময় বিয়ে বাড়িতে আমন্ত্রিত হয়ে দুবাইয়ে গিয়েছিলেন শ্রীদেবী সঙ্গে ছিল পুরো পরিবার। পরে বনি কাপুর তার দুই মেয়েকে নিয়ে মুম্বাইয়ে চলে আসেন। কিন্তু কামালের দাবি ওই সময় বনি কাপুরের নাকি হঠাৎ টিনএজের রোমান্স ফিলিং আসে এবং তিনি শ্রীদেবীকে খুব মিস করার কারণে আবার দুবাইয়ে চলে যান।
এরপরের ঘটনা আমরা সাধারণত সবাই সেই সময় খবরে দেখেছি। শ্রীদেবীকে হোটেলের বাথটবে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, তিনি কোন ভাবে বাথটবের জলে ডুবে মারা গিয়েছেন এখনো পর্যন্ত আমরা এটাই জানি ।গোটা ঘটনাটি সেই সময় খটকা জাগালেও সেই নিয়ে আর কোনো রকম তদন্ত হয়নি। কিন্তু বিতর্ককে আবার নতুন করে উস্কে দিলেন এই অভিনেতা।
কামাল সেই রাতের বর্ণনা দিয়েছেন বিশদে। ২৪শে ফেব্রুয়ারি বনি কাপুর দুবাইয়ের ওই হোটেলে এসে ঠিক করেন ওইদিনই শ্রীদেবীকে ডিনারে নিয়ে যাবেন। সেইমতো তিনি ঘরে ক্রিকেট দেখতে বসে যান এবং শ্রীদেবী বাথরুম এ চলে যান ফ্রেশ হতে। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা থেকে রাত আটটা বেজে যায় বনি কাপুর ভুলে যান যে তার স্ত্রী অতক্ষণ হয়ে গেল বাথরুম থেকে বেরোননি। পরে যখন খেয়াল হয় তিনি বাথরুমে প্রথমে নক করেন তারপরে দরজা ঠেলে ঢোকেন। দরজা নাকি খোলা ছিল। এই পরেই তিনি দেখতে পান বাথটবে পড়ে রয়েছেন শ্রীদেবী
কামালের প্রশ্ন, সাধারণ মানুষ হলে সেই সময় চিৎকার চেঁচামেচি করে লোক জড়ো করে দিত, হাসপাতালে নিয়ে যেত নিজের স্ত্রীকে। সেখানে বনি কাপুর রাত তিনটে পর্যন্ত বসে ভাবলেন যে তিনি কী করবেন এবং তিনি নাকি শ্রীদেবীকে দেখেই বুঝে গিয়েছিলেন যে মারা গিয়েছেন এই কিংবদন্তী অভিনেত্রী! তারপরে হোটেলে স্টাফদের তিনি ডাকলেন এবং শ্রীদেবীকে তখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একজন ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির মানুষ কী করে একটি ৫ ফুট ১ ইঞ্চি বাথটাবে ডুবে গিয়ে মারা যায় এই প্রশ্ন বারবার তুলেছেন কামাল। এরপর ভারতে আসতে গিয়ে অনেক বাধার সম্মুখীন হন বনি কিন্তু ভারতের কিছু হোমরা চোমরা ব্যক্তির সহায়তায় মুকেশ আম্বানির পাঠানো প্রাইভেট জেটে শ্রীদেবীর দেহ নিয়ে ভারতে ফেরেন প্রযোজক বনি কাপুর।
এছাড়াও দুবাইতে পোস্টমর্টেমের পর দেহ ভারতে নিয়ে এসেই অন্তিম সংস্কার করে দেওয়া, ভারতীয় সরকারকে কোনরকম তদন্তের অনুরোধ না করা বা ভারতে শ্রীদেবীর দেহের আরেকবার পোস্টমর্টেম না হওয়া ইত্যাদি ঘটনাগুলো রীতিমতো সন্দেহজনক। দীপ্তি নামে তাঁর এক ভক্ত সুপ্রিমকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন যে শ্রীদেবীর মৃত্যু স্বাভাবিক নয় তাকে খুন করা হয়েছে।এর পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ে করা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে শীর্ষ আদালতে যেখানে দেখা যাচ্ছে যে শ্রীদেবীর শরীরের তিন জায়গায় আঘাত ছিল যার মধ্যে অন্যতম হলো মাথার আঘাত।
এরপরে আসল বিষয় খোলসা করেন কামাল। তাঁর দাবি, শ্রীদেবীর একটি ২৪০ কোটি টাকা মূল্যের ইন্সুরেন্স পলিসি করা ছিল। সেই ইন্সুরেন্স পলিসি টাকা পাওয়া তখন যেত যদি শ্রীদেবীর মৃত্যু দুবাই বা কোন গালফ কান্ট্রিতে হত। এভাবেই দুয়ে দুয়ে চার করেন কামাল। তার স্পষ্ট দাবি এই জন্যেই দুবাইতে বনি কাপুর খুন করেছেন নিজের স্ত্রী শ্রীদেবীকে! যদিও বনি কাপুরের তরফে কামাল আর খানের বক্তব্যের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি তবে গোটা ঘটনাটি জেফের খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে এবং তা নিয়ে যে রীতিমতো বিতর্ক তৈরি হতে শুরু করেছে একথা বলাই বাহুল্য।





