বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর কর্মজীবন যেমন বহু আলোচিত, তেমনই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কৌতূহল রয়েছে অনুরাগীদের মধ্যে। গৌরঙ্গ চক্রবর্তী থেকে ‘ডিস্কো ডান্সার’ হয়ে ওঠার পথে তাঁকে বহু লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। প্রেম ও সম্পর্ক নিয়েও বারবার শিরোনামে এসেছেন তিনি। অভিনেত্রী যোগিতা বালির সঙ্গে চার দশকেরও বেশি সময়ের দাম্পত্য জীবন সকলেরই পরিচিত। শ্রীদেবীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও নানা সময়ে আলোচনা হয়েছে। তবে অনেকেরই অজানা, যোগিতা বালির আগে মিঠুনের জীবনে এসেছিলেন অভিনেত্রী ও মডেল হেলেনা লিউক। ১৯৭৯ সালে তাঁদের বিয়ে হলেও সেই সম্পর্ক মাত্র চার মাসের মধ্যেই ভেঙে যায়। মিঠুনের জন্মদিন উপলক্ষে আবারও সামনে এসেছে সেই অধ্যায়।
হেলেনা লিউক সত্তরের দশকের শেষভাগ এবং আশির দশকের শুরুতে বলিউডের পরিচিত মুখ ছিলেন। মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। অমিতাভ বচ্চনের জনপ্রিয় ছবি ‘মর্দ’-এ ‘লেডি হেলেনা’ বা ব্রিটিশ রানির চরিত্রে অভিনয় করে বিশেষ পরিচিতি পান। এছাড়াও ‘দো গুলাব’, ‘আও পেয়ার করেঁ’ এবং ‘সাথ সাথ’-এর মতো ছবিতেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। পরে অভিনয়জগৎ থেকে দূরে সরে গিয়ে বিমান সংস্থায় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়ে।
জানা যায়, সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এক পার্টিতে প্রথম আলাপ হয়েছিল মিঠুন ও হেলেনার। তখন অভিনয়জগতে নিজের জায়গা শক্ত করার লড়াই চালাচ্ছিলেন মিঠুন। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত জীবনের একটি সম্পর্ক ভাঙার পর নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন হেলেনা। পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে হেলেনা দাবি করেছিলেন, মিঠুন প্রায় প্রতিদিন তাঁর বাড়ির সামনে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাতেন এবং কথা বলতেন। অভিনেতার আন্তরিকতা ও আবেগে শেষ পর্যন্ত মুগ্ধ হন তিনি। এরপর ১৯৭৯ সালে গোপনে বিয়ে করেন দু’জনে। কিন্তু যে সম্পর্ক এত ভালোবাসা দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা মাত্র ১২০ দিনের মধ্যেই বিচ্ছেদের পথে চলে যায়।
পরবর্তীতে ‘স্টারডাস্ট’ ম্যাগাজিনসহ একাধিক সাক্ষাৎকারে হেলেনা তাঁদের বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিয়ের পর মিঠুন অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠেন এবং পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেও আপত্তি জানাতেন। হেলেনার বক্তব্য ছিল, “মিঠুন বয়সে আমার চেয়ে বড় হলেও মানসিক দিক থেকে ও ভীষণ অপরিণত ছিল। ও শুধু নিজেকে ভালোবাসত এবং নারীদের সম্মান করতে জানত না।” পাশাপাশি দুই পরিবারের জীবনযাত্রার পার্থক্যও সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছিল বলে তিনি দাবি করেন। সচ্ছল ও আধুনিক পরিবেশে বড় হওয়া হেলেনার পক্ষে মিঠুনের যৌথ পরিবারের রক্ষণশীল পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল।
আরও পড়ুনঃ হঠাৎ করেই ভারতে বন্ধের মুখে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম! লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারীর মধ্যে চরম উদ্বে’গ, এমন কী ঘটল যে ক*ড়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল কেন্দ্র?
বিচ্ছেদের কিছুদিনের মধ্যেই মিঠুনের জীবনে আসেন অভিনেত্রী যোগিতা বালি। হেলেনার সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ১৯৭৯ সালের শেষদিকে যোগিতাকে বিয়ে করেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে হেলেনা বলেছিলেন, “মিঠুনের সাথে বিয়েটা আমার জীবনের একটা মস্ত বড় ভুল এবং একটা ভয়ানক দুঃস্বপ্ন (Nightmare) ছিল। ওর একাধিক নারীসঙ্গ ছিল।” ২০২৪ সালে প্রয়াত হন হেলেনা লিউক। অন্যদিকে, মিঠুন চক্রবর্তী কখনও প্রকাশ্যে তাঁর প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে বিশেষ মন্তব্য করেননি। জীবনের সেই অধ্যায়কে তিনি সবসময় ব্যক্তিগত পরিসরেই রেখে দিয়েছেন বলেই মনে করা হয়।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার