দীর্ঘদিনের যানজট ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সমস্যার কথা মাথায় রেখে এবার দমদম রোড থেকে সরানো হচ্ছে কালীপুজোর মণ্ডপ। নাগেরবাজার থেকে দমদম স্টেশন যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা আটকে প্রতি বছর পুজোর আয়োজন করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবশেষে তাঁদের অভিযোগে সাড়া দিয়ে রাস্তার উপর মণ্ডপ তৈরির অনুমতি দেয়নি পুলিশ। সোমবার রাত থেকেই মণ্ডপ খোলার কাজ শুরু করেছেন উদ্যোক্তারা। ‘খামখেয়ালি সঙ্ঘ’ এবং ‘আমরা মিলেছি’ নামে পরিচিত দুই ক্লাবের পুজো এবার রাস্তার বদলে এলাকার ভিতরে অন্য জায়গায় অনুষ্ঠিত হবে। পুলিশের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীরা।
দমদম স্টেশন থেকে নাগেরবাজার পর্যন্ত রাস্তাটি এমনিতেই অত্যন্ত ব্যস্ত। স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে হনুমান মন্দিরের কাছে বাগজোলা খাল পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বছরের পর বছর কালীপুজোর মণ্ডপ তৈরি করা হতো। এর ফলে পুজোর দিনগুলিতে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ত যান চলাচল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হতো সাধারণ যাত্রীদের। এমনকী অ্যাম্বুল্যান্সের মতো জরুরি পরিষেবার গাড়িও সমস্যায় পড়ত। স্কুলপড়ুয়া, অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা, সকলেরই ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
গত বছর একটি পুজো অন্যত্র সরানো হলেও চলতি বছরে ফের রাস্তার উপর দুটি মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। তাতেই নতুন করে ক্ষোভ বাড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, উৎসবের আনন্দের জন্য সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথ আটকে রাখা কোনওভাবেই কাম্য নয়। একাধিক অভিযোগের পর নাগেরবাজার থানার পুলিশ এবার রাস্তার উপর মণ্ডপ তৈরির অনুমতি দেয়নি। ফলে উদ্যোক্তারা মণ্ডপ খুলে অন্যত্র পুজোর আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমিত চৌধুরীর কথায়, কালীপুজোর কয়েকটা দিন বাড়ি থেকে বেরোনোই কঠিন হয়ে পড়ত। রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কিংবা জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করাও যথেষ্ট সমস্যার ছিল। তাই পুলিশের এই সিদ্ধান্তে তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন। প্রবীণ বাসিন্দা রমা চক্রবর্তীর বক্তব্য, উৎসবের আনন্দ সকলের জন্য। কিন্তু সেই আনন্দের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থমকে যাওয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুনঃ নন্দিনীর সঙ্গে ঝামে’লা নয়, বিগ বসের ঘরে কোন ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আ’ঘাত পেয়েছিলেন সোহিনী? এতদিন পর করলেন বি’স্ফো’রক স্বীকারোক্তি!
দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী জানিয়েছেন, রাস্তা আটকে কালীপুজোর আয়োজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের কাছে অভিযোগ আসছিল। গত বছর থেকেই পুজোগুলি অন্যত্র সরানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। এবার পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্যোগে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট সূত্রে খবর, সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা এবং যানজট এড়াতে আগামী দিনেও দমদম রোডে রাস্তা আটকে কালীপুজোর মণ্ডপ তৈরির অনুমতি দেওয়া হবে না।






