নিজের দলের লোকেদের কাছ থেকেই গালি খাচ্ছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। একজন রেড ভলেন্টিয়ার শশাঙ্ককে একটি কুকুর ছানা দত্তক নেওয়া করিয়েছিলেন শ্রীলেখা মিত্র আর সেই কুকুরটি মারা যেতেই পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে ঘোরালো। শ্রীলেখা রেড ভলেন্টিয়ার্সদের সমালোচনা করতেই তারাও পাল্টা গালিগালাজ শুরু করেছে শ্রীলেখাকে।
কিন্তু পরিকল্পনা আর বাস্তব একেবারেই মেলেনি।শশাঙ্কের কথা অনুযায়ী, তাঁর অযত্নে সে কুকুরছানা পাড়ায় বেরিয়ে পড়ে। বড় কুকুররা তাকে মেরে ফেলে। এর পর প্রতিবাদের মুখে পড়ে মার খেতে হয়েছে শশাঙ্ককে। সেই পথপশুপ্রেমীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন শশাঙ্ক।ইতিমধ্যেই সি পি এমের অন্দরে এই নিয়ে যথেষ্ট উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তিনি জানান ‘‘যখন কেউ ছিল না, আমি সিপিএম-এর পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। এখন সেই পার্টির সদস্যরা আমার নামে যা ইচ্ছে তাই বলে যাচ্ছে।’’
তবে গোটা ঘটনার সাথে অভিযোগ বেশ গুরুতর।কুকুরছানা দত্তক নেওয়ার পর থেকে দু’জন পথপশুপ্রেমীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন শশাঙ্ক। তাঁর কথায় জানা যায়, তাঁদের এক জন মঙ্গলবার রাতে ফোন করেন শশাঙ্ককে। ঠিক হয়, তাঁর বাড়ি গিয়ে কথা বলবেন। সেই মতো দক্ষিণেশ্বরে শশাঙ্কের বাড়ির কাছে পৌঁছন দু’জন মহিলা। সঙ্গে ছিলেন আরও চার পুরুষ। শশাঙ্কের অভিযোগ, কথা বলতে বলতেই শশাঙ্কের গায়ে হাত তোলেন তাঁরা। চড়, থাপ্পড় মারা শুরু হয়। পাড়ার লোকেরা এসে তাঁকে রক্ষা করেন। এই ঘটনার পরেই সরকারি হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান শশাঙ্ক।
তবে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে ট্রোলের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী।শ্রীলেখাকে ‘কুকুর মৌলবাদী’ বলে কটাক্ষ করেছেন নেট নাগরিক। পাশাপাশি তার দাবি কুকুরের পরিবর্তে নিজের সঙ্গে ‘ডেট’-এর প্রস্তাব রাখা অনুচিত। তিনি লিখেছেন, ‘উনি কি নিজেকে ট্রফি মনে করেন?’ তার পরে সিপিএম নেতৃত্বের উদ্দেশে তাঁর অনুরোধ, ‘কুকুরবাদী এবং ক্যাডারবাদী এই দুই দলে বিভক্ত হয়ে যাবেন না। ঐক্যই বল। ইউনিটি ইজ স্ট্রেংথ।’ গোটা ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই অভিনেত্রী আবেগের বশে কাদতে কাদতে লাইভ ভিডিও করেছেন। সেই নিয়েও কটাক্ষ শুরু হয়। আর এক নেটাগরিকের মন্তব্য, ‘সিপিএমের অভিনেত্রী, কুকুর-মৌলবাদী এবং সিপিএম সদস্য ও রেড ভলান্টিয়ারদের দিনব্যাপী নাটক নিয়ে আমার প্রতিক্রিয়া…কিছু যায় আসে না।’
অনেকেই মনে করছেন অভিনেত্রী এবার বামফ্রন্ট ছেরে ঘাসফুলে যোগ দিতে চান। এই বিষয়ে অবশ্য তিনি জানান ‘‘আমি বামেদের সমর্থন করতাম, আগামীতেও তাই করব।”







