নির্ভয়া কান্ড গোটা ভারতের বুকে ঘটে যাওয়া এক চরম নিন্দনীয় ঘটনা। মানুষের নৃশংসতা থেকে যৌ’ন লালসা, সব কিছুই যেন এক মুহূর্তে ফুটে উঠেছিল এই ঘটনার মাধ্যমে। মানুষ কতটা নির্মম কতটা পাশবিক হতে পারে তার স্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছিল এই ঘটনা।
তরুণী তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে সিনেমা দেখে ফিরছিল। বাড়ি ফেরার পথে একটি ফাঁকা বাসে তারা ওঠে। তখনো জানা ছিল না নিয়তি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। একসাথে বেশ কয়েকজন মেয়েটির ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নৃশংস ভাবে ধ’র্ষণ করে বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল তারা। শত চেষ্টা করেও কিছু করতে পারেনি তার বন্ধু। তাকেও ফেলে দেওয়া হয় বাস থেকে। নিজের প্রেমিকাকে একটা চাদর জড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসে সে। রে’পের নৃশংসতা চমকে দিয়েছিল ডাক্তারদের। বাঁচেনি সেই তরুণী। পরিচয় গোপন করে তার নাম রাখা হয় নির্ভয়া।
নৃশংস সেই ঘটনা নিয়ে এবার বড়ো পর্দায় সিনেমা তৈরি করছেন অংশুমান প্রত্যুষ। সিনেমার নাম নির্ভয়া, সমাজের লক্ষ্মী। সূত্রের খবর, সিনেমার নাম নির্ভয়া হলেও বাস্তবে ঘটনার সাথে খুব বেশি মিল নেই। বরং ফিল্মে দেখা যাবে একটি তেরো বছরের মেয়ে হঠাৎ করেই অ’ন্তঃস্বত্ত্বা।পরিচালক জানান, সিনেমার মুখ্য চরিত্র মাত্র তের বছরের এক কিশোরী। সে গ্যাং রে’পের শিকার হয়ে অ’ন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়ে।স্বাভাবিক ভাবেই বদলে যায় তার জীবন। সেই নিয়েই তৈরি নির্ভয়া।
View this post on Instagram
রাজধানীর বুকে ঘটে যাওয়া সেই নৃশংস ঘটনা সামনে রেখেই পরিচালক নাম রেখেছেন নির্ভয়া। পাশাপাশি তার দাবি সমাজের সকল নির্যাতিতা নারীদের সন্মান জানাতে এই সিনেমা তৈরি করছেন তিনি।
সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন হিয়া দে। পটল কুমার গানওয়ালা ধারাবাহিকের সৌজন্যে তিনি এখন জনপ্রিয় মুখ। হিয়া প্রসঙ্গে পরিচালক জানান হিয়া দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় করছেন এবং খুবই দক্ষ অভিনেত্রী।যদিও সিনেমায় হিয়াকে দিয়ে কোনো ম্যাচিওরড দৃশ্য শুট করা হয়নি। যদিও রেপের ঘটনা প্রাইম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সিনেমার শুরু থেকেই নির্ভয়া অ’ন্তঃস্বত্ত্বা।চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে করতেই হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালক যথেষ্ট চিন্তিত ছিলেন অ’ন্তঃস্বত্ত্বা হওয়ার পরে মহিলাদের মধ্যে যে মানসিক পরিবর্তন আসে , সেটা হিয়া কতটা করতে পারবে?
হিয়ার মা জিজ্ঞাসা করেন সে করতে পারবে কি? সিনেমার কাহিনী শুনেই রাজী হয় সে। হিয়া জানান, তেমন কোনো প্রস্তুতি তিনি নেননি। বরং শুটিং এসে নিজের মত করে চরিত্র হিসেবে মেলে ধরেছেন।পরিচালকের মতে মেয়েরাই সমাজের মেরুদন্ড, তিনি নিজেও মেয়ের বাবা। এপ্রিল মাসেই শেষ শুটিং। নভেম্বর মাসেই বড়ো পর্দায় আসতে চলেছে সিনেমাটি।





