বলিউড অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠীর নাম এতদিনে কেউ শোনেননি তা হতে পারে না। বলিউডে এখন যদি কোন অভিনেতা ধারাবাহিকভাবে অভিনয় করে থাকেন তাহলে তিনি হলেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী। বলিউড সিনেমা হোক কিংবা ওয়েব সিরিজ পরিচালকদের প্রথম পছন্দ পঙ্কজ ত্রিপাঠী। কিন্তু জানেন কি অভিনয়ে আসার আগে এই অভিনেতা জুতো বিক্রি করতেন জীবনধারণের জন্য?
‘স্যাক্রেড গেমস’ এর খান্না গুরুজির সম্পর্কে এবার জানা গেল এরকমই চমকপ্রদ তথ্য। ‘মির্জাপুর’ এর আখন্দানন্দ “কালীন ভাইয়া” পঙ্কজ ত্রিপাঠী নিয়ে এখন মগ্ন সকলে। নেটফ্লিক্সে মুক্তিপ্রাপ্ত গুঞ্জন সাক্সেনা; দ্য কার্গিল গার্ল সিনেমায় গুঞ্জনের বাবার চরিত্রেও সফল অভিনয় করেছেন পঙ্কজ।
তবে বলিউডে কিন্তু পঙ্কজ ত্রিপাঠীর যাত্রাটা সহজ ছিল না। আজ থেকে পনের বছর আগে রান এবং ওঙ্কার এর মতো ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বলিউডে অভিষেক ঘটেছিল এই দক্ষ অভিনেতার। এরপরে বড় ব্রেক আসে ২০১২ সালে। অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর চলচ্চিত্র সিরিজ এনাকে নেগেটিভ রোলে দেখা যায় যা দর্শকরা অত্যন্ত পছন্দ করেছিলেন। এরপর সেক্রেড গেমস ওয়েব সিরিজে তার চরিত্র তাকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে যায়। তাকে বিভিন্ন টেলিভিশন শোতেও দেখা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই প্রতিভাবান অভিনেতার ৪০ টির ও বেশি সিনেমা এবং ৬০ টিরও বেশি টেলিভিশন শো করে ফেলেছেন।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে জানা যায় তার জীবনের অজানা কিছু কাহিনী। সেখানেই তিনি জানিয়েছেন যে অভিনয়ে আসার আগে জীবনধারণের জন্য তিনি জুতো বেচতেন।কলকাতা থেকে পাটনায় জুতো কিনে নিয়ে যেতেন তিনি। সেইসময় সাতাশ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন জুতো বিক্রির কাজে। তবে পুরোটাই লোকসান হয় বলে জানিয়েছেন এই অভিনেতা।
তবে গ্রামের মানুষ হওয়া ত্রিপাঠী ছোট থেকেই যেহেতু অনেক স্ট্রাগল করে বড় হয়েছেন তাই তিনি জানেন কীভাবে মানুষকে শ্রদ্ধা করতে হয় তা জানেন বলেই এই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন।
তবে জানেন কি তিনি ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার ছাত্র ছিলেন? যদিও সেখান থেকে তিনি দুইবার বিতাড়িত হয়েছেন তবে শেষ পর্যন্ত নিজের গ্রাজুয়েশন তিনি এখান থেকে সম্পূর্ণ করেন। পরবর্তীকালে বন্ধু ভানু উদয়ের একাধিকবারের ডাকের পর মুম্বই আসেন পঙ্কজ। এরপর ধীরে ধীরে লড়াই শুরু এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা এই প্রতিযোগিতার বাজারে। সাফল্য পেলেও কিন্তু মাথা ঘুরে যায়নি পঙ্কজ ত্রিপাঠীর। এখনও নিজের গ্রামের বাড়িতে থেকে সাধারণ দর্শকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন কালিম ভাইয়া।





