বাংলা ও হিন্দি গানের জগতে এক অমুল্য রত্ন আশা ভোসলের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সঙ্গীত জগতের এই বিশাল ক্ষতিতে একে একে শোক প্রকাশ করছেন অনেকেই। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও এই শোকের মুহূর্তে আশা ভোসলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আবেগপ্রবণ হয়েছেন। তিনি বলেন, “আশা দিদির গাওয়া গান আজও মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত, আর তাঁর কণ্ঠ ছিল এক বিশেষ শক্তি।” গানের জগতের এই কিংবদন্তি গায়িকার অমূল্য সুরের কথা স্মরণ করে প্রসেনজিৎ বলেন, “আমার মায়েরও ছিলেন আশা ভোসলের গান নিয়ে বিশেষ এক ভালোবাসা।”
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আশা ভোসলেকে শুধু একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে নয়, একজন মহান ব্যক্তিত্ব হিসেবেও জানতেন। তিনি আরো বলেন, “আশা দিদির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল এক স্বপ্নের মতো। ‘পুরুষোত্তম’ ছবির গানে তাঁর কণ্ঠ শুনে সেই সময়ের সুরকার রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করতাম।” আশা ভোসলের গাওয়া গানগুলো তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল, যেগুলি এখনো মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।
এই শোকের মুহূর্তে প্রসেনজিৎ আরও উল্লেখ করেন, “আশা দিদির গান ছিল একটি অদ্ভুত শান্তির উৎস। তাঁর কণ্ঠ শুনলে মন সহজেই প্রশান্তি পেত। গানের যে দুটি নাম প্রথম মনে পড়ে, তা হলো লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোসলের। তাঁরা যে গান রেখে গেছেন, তা চিরকাল মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকবে।” বাংলা ও হিন্দি সিনেমায় আশা ভোসলের গান আজও অমলিন, বিশেষত তাঁর কণ্ঠে গাওয়া অনেক গান এখনো মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বয়সে ছোট আরডিকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে, কিন্তু কেন? আজ দম্পতি পরপারে থাকলেও, সুরের রাজ্যে অমর হয়ে রয়ে যাবে দুই কিংবদন্তির প্রেম কাহিনী!
আশা ভোসলের মৃত্যু শুধু সঙ্গীত জগতের জন্যই নয়, বাংলা সিনেমার জন্যও একটি গভীর ক্ষতি। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর ছবিতে আশা ভোসলের গান ব্যবহার করেছেন, যার মধ্যে ‘অমরসঙ্গী’, ‘আপন পর’, ‘আক্রোশ’, ‘চোখের আলোয়’ এবং ‘আশা ও ভালবাসা’-এর মতো জনপ্রিয় গানগুলো রয়েছে। এই সব গান এখনও শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় এবং চিরকাল তাদের মুখে শোনা যাবে। আশা ভোসলের কণ্ঠে গানগুলি, বিশেষত যেগুলি তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছবির জন্য গেয়েছিলেন, সেগুলোও ছিল খুবই প্রিয়।
রবিবার আশা ভোসলের মৃত্যুর খবর প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই সঙ্গীত জগতের সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার তিনি আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, অঙ্গ বিকল হয়ে তিনি মারা গেছেন। শোকাবহ এই মুহূর্তে আশা ভোসলের ছেলে জানান, সোমবার মুম্বইয়ের লোয়ার পারেলে তার শেষ শ্রদ্ধা জানানো যাবে এবং তারপর বিকেল ৪টেয় শিবাজী পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার