বলিউডে এমন একাধিক তারকা রয়েছেন যারা বেশ কষ্ট করেই নিজেদের সাফল্যেরক চূড়ায় পৌঁছেছেন। একসময় জীবনে কঠিন লড়াই লড়ে আজকের এই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তারা। তাদের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে নানান করুণ ঘটনা। এমনই এক তারকা হলেন গুলসন গ্রোভার যিনি কী না একসময় উপার্জনের জন্য বাড়িতে বাড়িতে ফিনাইল, সাবানও বিক্রি করেছেন।
১৯৫৫ সালের ২১শে অক্টোবর দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন গুলসন গ্রোভার। খুবই সাধারণ পরিবারে জন্মেছিলেন তিনি। ছোটো থেকেই সঙ্গী হয় অভাব-অনটন। তবুও এরই মধ্যে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন কষ্ট করেই। নিয়েছিলেন সেলসম্যানের কাজও।
অতি সাধারণ পরিবারের ছেলে হলেও তাঁর স্বপ্নটা কিন্তু সাধারণ ছিল না। পয়সা বাঁচানোর জন্য প্রায় ৯ কিলোমিটার হেঁটে যেতেন বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে কলেজ যেতে পাল্টাতে হত তিনটি বাস। এর উপর কলেজ যাতায়াতের পথেই বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেচতেন সাবান, ফিনাইল।
সেই টাকা দিয়েই নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন গুলসন। বাকি টাকা তুলে দিতেন পরিবারের হাতে। পড়াশোনা শেষ করে মুম্বই পাড়ি দেন তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্তই ভাগ্য বদলে দেয় তাঁর। মুম্বইতে গিয়ে তিনি যোগ দেন থিয়েটারে। সেখানেই অভিনয়ে হাতে খড়ি হয় গুলসনের। সেই থেকেই শুরু পথ চলা।
থিয়েটার করতে করতে ১৯৮০ সালে ‘হাম পাঁচ’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা দেন তিনি। এরপর থেকে বলিউডের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়ে যায়। একের পর এক ছবিতে অভিনয় করতে থাকেন তিনি। তবে তাঁর অভিনীত নানান ছবির মধ্যে বেশিরভাগ চরিত্রই ছিল খলনায়কের চরিত্র। ‘ইজ্জত’, দুধ কা কার্জ’, ‘কুরবান’, ‘রাম লখন’, ‘অবতার’, ‘সওদাগর’, ‘অপরাধী’, ‘দিলওয়ালে’, ‘হিন্দুস্তান কি কসম’, ‘মোহরা’, ‘হেরাফেরি’, এমন নানান সুপারহিট ছবিতে সাবলীলভাবে অভিনয় চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।
তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ‘এক হাসিনা’, ‘দিল মাঙ্গে মোর’, ‘এজেন্ট বিনোদ’, ‘বিন বুলায়ে বারাতি’র মতো ছবিও। এই সমস্ত ছবি তাঁকে বলিউডের ‘ব্যাডম্যান’-এর তকমা দিয়েছে। তবে পর্দায় তিনি ব্যাডম্যান হলেও ব্যক্তিগত জীবনে কিন্তু তিনি গুডবুকেই ছিলেন।






